কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সালানা জলসা বন্ধ ও তাদের সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ পরিষদ।
শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাবেশ ও মিছিলে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি আরিফ বিল্লাহ বলেন, খতমে নবুওয়াত আকীদা ইসলামের অপরিহার্য একটি ধর্মবিশ্বাস। অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ সা. সবদিক থেকে সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তারপরে নতুন কেউ নবী হয়ে আসবে না। এই ধর্ম বিশ্বাস অটুট থাকলে ইসলাম কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অন্যথায় ইসলাম চিরস্থায়ী ধর্ম হিসেবে অবশিষ্ট থাকে না। তিনি বলেন, ভারতের কাদিয়ানে জন্মগ্রহণকারী মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী বৃটিশের ছত্রছায়ায় নবী হওয়ার দাবি করে। সে লাগাতার ইমাম মাহদী, নবী এবং স্বতন্ত্র নবী, স্বয়ং মুহাম্মাদ হওয়ার দাবি করে ইসলামকে বিকৃত করার ষড়যন্ত্র করেছে।
তিনি দাবি করেন, তথাকথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাত নামক কাদিয়ানী সম্প্রদায় কোরআন শরীফের শতাধিক আয়াত, ওআইসি, রাবেতায়ে আলমে ইসলামীসহ বিশ্বের সব মুসলমানদের দৃষ্টিতে অমুসলিম বা কাফের। অথচ তারা নিজেদেরকে প্রকৃত মুসলমান দাবি করে সাধারণ মুসলমানের কাছে।
তিনি আরো বলেন, সংবিধানের আলোকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে আপন ধর্ম পালন করতে পারবে। কিন্তু সংবিধান অন্য কারো ধর্মকে বিকৃত করার বা কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার সুযোগ দেয় না। অথচ কাদিয়ানীরা এদেশের মুসলমানদের ধর্ম বিকৃত করছে এবং আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তারা তাদের ধর্মকে ইসলাম, উপাসনালয়কে মসজিদ এবং ইসলামের অন্যান্য পরিভাষা ব্যবহার করে মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় কাদিয়ানীরা দেশব্যাপী মসজিদ নামে উপাসনালয় বানানোর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে এবং পঞ্চগড়ে জলসা সালানা বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করে চরম বিশৃঙ্খলা ও ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
সংগঠনের সভাপতি বলেন, গত কয়েক বছর যাবৎ কাদিয়ানীদের জলসা সালানাকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ন্যাক্কারজনকভাবে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, পঞ্চগড়ের তেলিপাড়ায় কাদিয়ানীদের আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জলসা সালানা বন্ধ করতে হবে এবং সরকারিভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা করতে হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমআর/আরএএম