ইসরাইল ও ফিলিস্তানের যুদ্ধে গাজায় নারী-শিশু সহ সহস্র নিরাপরাধ মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনায় এবং সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ৬৬ নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম- সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে. গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ রাতের আঁধারে ঘুমন্ত ইসরাইলি নাগরিকের উপর ফিলিস্তিনি হামলার জের থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি সংঘাত ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিনতর হচেছ। এই সংঘাতে নারী-শিশু সহ বহু নিরাপরাধ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। এই সংঘাতে উভয় দেশেরই জনগণ ও নারী-শিশুদের মানবাধিকার চরমভাবে লংঘিত হচ্ছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ ঘটনায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করছে।
আমরা জানি, যে কোন যুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ও নির্যাতনের শিকার হয় নারী ও শিশুরা। এ যুদ্ধেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ফিলিস্তিনি মৃত্যুর সংখ্যা নয় হাজার ছাড়িয়ে গেছে যার মধ্যে ৬৫ শতাংশই নারী ও শিশু । এছাড়া জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনপিএফ) তথ্য অনুসারে, অবরুদ্ধ গাজা অঞ্চলে ৫০ হাজার গর্ভবতী নারী আছেন। ইসরাইলের হামলা-অবরোধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যসেবা –ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির অভাবে জরুরি প্রসূতি পরিসেবা সংকটের মধ্যে রয়েছে। এর ফলে এই নারীদের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে। যুদ্ধ বিষয়ক সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সংবাদী কর্মীরাও এই সহিংসতা থেকে রেহাই পাচ্ছেনা। যা অত্যন্ত উদ্বেগের ও অমানবিক। আমরা মনে করি যুদ্ধের নামে নির্বিচারে নারী- শিশু ও সাধারণ নাগরিককে হত্যা করা গণহত্যার সামিল।
জাতিসংঘ থেকে যুদ্ধ বিরতীর ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানানো হলেও তা মানা হচ্ছেনা বলে দাবী করা হয়ে বিবৃতিতে।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ফিলিস্তিন-ইসরাইলের এই সংঘাতের দ্রত সমাধান আশা করে এবং আন্তর্জাতিক মহলের সকলের সহযোগিতায় এই এলাকায় দ্রত শান্তি এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আহবান জানায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ । এই বিষয়ে জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে তারা ।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি দুই দেশের প্রতি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে এবং একই সাথে যুদ্ধবন্দীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায় । সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি উভয় দেশের নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও নারী-শিশুর মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানানোর লক্ষ্যে বিশ্বসম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় ।
ঢাকা রিপোর্ট ২৪.কম/এমআর/আরএএম