মঙ্গলবার মধ্যরাতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বাসায় অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই অভিযানে কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ নুরের। এ ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর নুরের বাসায় অভিযানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
বুধবার (২ আগস্ট) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডিবি প্রধান জানান, ওই বাসায় কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ডিবির সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায় এবং ইয়ামিনকে আটক করে।
হারুন অর রশীদ বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা পল্টন কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার আসামি। গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর তার বাসায় মামলার আসামিকে লুকিয়ে রেখেছিল। সে (নুর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেধাবী ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভোটে নির্বাচিত ভিপি। উনার তো আইন জানার কথা, উনি কেন তার বাসার মধ্যে মামলার আসামিকে লুকিয়ে রাখবেন? আমরা সেটা জেনেই গিয়েছি। উনার উচিত ছিল বাধা না দিয়ে সহযোগিতা করা।
ডিবি প্রধান জানান, অভিযানকালে আমরা অপেক্ষা করেছি অনেকক্ষণ। আমাদের পুলিশ তাকে (নুর) বারবার বলেছে- আপনি আমাদের আসামিকে দিয়ে দেন। আইনে বলা আছে, মামলার আসামি যার বাসাতেই থাকুক, আমরা আনতে পারি। প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করেও আনতে পারি। এখানে আইনের বাইরে কিছু হয়নি। মামলার আসামিকে আনা হয়েছে, উস্কানি দাতাকে আনা হয়েছে।
ডিবির ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, নুর একজন মেধাবী ছাত্র, ভিপি ছিলেন। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তারই তো উচিত ছিল মামলার আসামি লুকিয়ে থাকলে তাকে বের করে দেওয়া। তিনি তা না করে উল্টো পুলিশের ওপর চড়াও হলেন, গালিগালাজ করলেন, সরকারি কাজে বাধা দিলেন।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গত ২১ জুলাই পল্টন থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ ও ভাঙচুরের অভিযোগে বিন ইয়ামিন মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই মামলাতেই ইয়ামিনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মাদরাসা ছাত্রদের উত্তেজিত করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম