রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয় না


DhakaReport24.com || 2021-06-14 17:56:45
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয় না



নয়দিনের ব্যবধানে আট দফা ভূমিকম্প হয়েছে সিলেটে। এতে দেশের উত্তর-পূর্বের এ জেলায় ভূমিকম্প আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ছোট ছোট ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বড় ভূমিকম্প হলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করে তারা সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে ফেলা ও প্রতিটি বহুতল ভবন ভূমিকম্প সহনীয় কিনা, তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হলেও এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখনো এসব ভবনে চলছে কার্যক্রম। এতে ঝুঁকি আরো বেড়েছে।

সর্বশেষ ৭ জুন সন্ধ্যায় সিলেটে দুই দফা ভূমিকম্প হয়। মাত্র ৩ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্পেই ফাটল দেখা দেয় নগরের বন্দরবাজার এলাকার রাজা জিসি স্কুলের একটি ভবনে। পরদিন প্রকৌশলীরা পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, এ স্কুলভবনটি ভূমিকম্প সহনীয়ভাবে নির্মাণ করা হয়নি।

এর আগে গত ২৯ মে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে সিলেটে অন্তত পাঁচটি ভূকম্পন অনুভূত হয়। পরদিন ভোরে আবার ভূমিকম্প হয়। যার সবগুলোর কেন্দ্রস্থল সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকায়।

২৯ ও ৩০ মের ভূমিকম্পের পর কিছুটা নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ৩০ মে নগরের ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রকাশ করে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এর মধ্যে ওইদিনই সাতটি ভবনকে ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

তবে বন্ধ রাখার নোটিস দেয়া এ ভবনগুলো আরো পাঁচ বছর আগেই ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিল সিসিক। তবে অজ্ঞাত কারণে সে উদ্যোগ থেমে যায়। এ সময় আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনগুলো।

জানা যায়, ২০১৬ সালে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরিচালিত জরিপের মাধ্যমে ভূমিকষ্পে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নগরের ৩২টি ভবনকে চিহ্নিত করে সিসিক। এ তালিকায় ছিল অনেক বাসা-বাড়ি, বিপণিবিতান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।

সে সময় ওই ভবনগুলো ‘অতি দ্রুত’ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় সিলেট সিটি করপোরেশন। মালিকপক্ষ না ভাঙলে নিজেরাই ভবনগুলো ভেঙে দেবে বলে জানায় সিসিক। এর মধ্যে দু-একটি ভবন ভাঙার কাজ শুরুও করে সিসিক। তবে এর পরই আটকে যায় কাজ।

পরে সিসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভাঙা নয়, মেরামত করা হবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো। কিন্তু পাঁচ বছরে সেই মেরামত কাজও হয়নি। সে সময় সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, কেবল ৩২টি নয়, নগরীতে আরো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের তালিকা করে নোটিস দেয়া হবে। এর মধ্যে শপিং মল, অ্যাপার্টমেন্ট, হোটেলও রয়েছে। এসব বহুতল ভবনের বেশির ভাগেরই নির্মাণ অনুমোদন নেই।


তবে কিছুদিন তোড়জোড়ের পর স্তিমিত হয়ে পড়ে সেই উদ্যোগ। এ তালিকা করার কাজও আর এগোয়নি। এরপর ২০১৯ সালের আরেক জরিপে জানানো হয়, নগরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আছে ২৫টি।

২৯ ও ৩০ মে ভূমিকম্পের পর সুরমা মার্কেট, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, সমবায় মার্কেট, মিতালী ম্যানশন ও রাজা ম্যানশন মার্কেট ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করে সিসিক। এছাড়া জিন্দাবাজার এলাকার জেন্টস গ্যালারি নামের একটি দোকান ও পনিটুলার একটি আবাসিক ভবনও ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

পাঁচ বছর আগে উদ্যোগ নিয়েও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো কেন ভাঙা হলো না জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, তখন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল। তবে পরে বিশেষজ্ঞরাই ভবনগুলো না ভেঙে সংস্কারের পরামর্শ দেন। কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিক কর্তৃপক্ষ সংস্কার করেছেনও। আবার কয়েকটিতে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে।

নুর আজিজ বলেন, নগরের বহুতল ভবনগুলো ভূমিকম্পসহনীয় কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা দ্রুতই সে উদ্যোগ নেব। সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আমাদের পক্ষে ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়। তবে যে ভবনগুলো ভূমিকম্পসহনীয় নয়, সেগুলোর সামনে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানিয়ে দেব।


বছর দশেক আগে বাংলাদেশ, জাপান ও শ্রীলংকার একটি বিশেষজ্ঞ টিম সিলেট নগরীর ছয় হাজার ভবনের ওপর জরিপ চালিয়ে একটি গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করে। এ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, সিলেটের অধিকাংশ বাণিজ্যিক ভবনই অপরিকল্পিত এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। রিখটার স্কেলে সাত বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে অধিকাংশ ভবনই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

এ গবেষক দলের সদস্য ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম। তিনি বলেন, সিলেটে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নগরীর সব ভবনকে ভূমিকম্প প্রতিরোধক করা। এজন্য নতুন ভবন নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা করতে হবে। মাটির ধরনের ওপর নির্ভর করে ভবনকে একতলা বা বহুতল করতে হবে। জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না। ভূমিকম্প প্রতিরোধী ডিজাইনে এবং মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে দালান তৈরি করতে হবে। আর পুরনো দুর্বল ভবনগুলোকে সংস্কার করে শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। সম্ভব না হলে ভেঙে ফেলতে হবে।