পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, ভারত থেকে তেল কিনতে পারে বাংলাদেশ। তৃতীয় কোনো দেশের তেল ভারতের মাধ্যমে কেনার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে, জ্বালানি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে আলোচনা হবে।
রোববার প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাবেন। সফরে কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউজে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার নয়, ভারতের তেল আমরা নিতে পারি। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে নর্থইস্ট স্টেটের পথে একটা কানেক্টিভিটি পাইপ লাইনও করা হয়েছে। এটার বিষয়ে অনেক কিছু হতে পারে। তবে অন্য তৃতীয় কোনো দেশের তেল ভারতের মাধ্যমে কেনার কোনো পরিকল্পনা এ মুহূর্তে নেই।
শাহরিয়ার আলম বলেন, ভারতের সঙ্গে এনার্জি, বিদ্যুৎ জ্বালানি, খাদ্য সহযোগিতার বিষয়ে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বেশ কয়েক বছর আগে হয়েছে। ভারতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আমরা নিয়ে আসছি এবং ভারতের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ বছরের কোনো একটা সময় উদ্বোধন হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে জ্বালানি খাতে আলোচনার প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম বলেন, এনার্জি কোঅপারেশনের অনেক কিছু আলোচনা হতে পারে। সেটা সময় মতো জানতে পারবেন।
এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে ৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভারতে একটি বাণিজ্যিক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সোমবার চার দিনের সফরে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরআইটি/আরএএম