বাংলাদেশে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল। এই সময়ে প্রধান নদী ও উপনদীগুলো হিমালয়ের বরফগলে ও অতিমাত্রায় বৃষ্টির পানির প্রবাহিত হওয়ার ফলে বন্যা দেখা দেয়। কিন্তু চলতি বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ১৯ টি জেলায় ৩০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী।টানা তৃতীয়বারের মতো বাড়ছে নদ নদীর পানি এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
বতর্মানে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বে্গ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ রকমের বন্যা হয়েছে বেশ কয়েকবার। দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের বন্যার ইতিহাস।
* ১৯৮৭ সালের বন্যা
১৯৮৭ জুলাই-আগস্ট মাসে বন্যায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। প্রায় ৫৭ হাজার ৩০০ বর্গ কিমি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত (সমগ্র দেশের ৪০% এরও অধিক এলাকা) প্লাবিত হয়।সাধারণত এ ধরনের বন্যা ৩০-৭০ বছরে একবার ঘটে। দেশের ভিতরে এবং বাইরে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা হয়ে থাকে। ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিমাঞ্চল, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র একীভূত হওয়ার দেশের নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়, খুলনার উত্তরাংশ এবং মেঘালয় পাহাড়ের সংলগ্ন অঞ্চল বন্যা কবলিত হয়।
* ১৯৮৮ সালের বন্যা
১৯৮৮-র বন্যা ছিলো বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যাগুলোর মধ্যে ভয়াবহ বন্যা। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সংঘটিত এই বন্যায় দেশের প্রায় ৬০% এলাকা ডুবে যায়। বেশ কয়েকটি স্থানে এই বন্যা ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো। এটি ছিলো এদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ও ক্ষয়-ক্ষতিময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বিশ্বব্যাপী গণ-মাধ্যমেও সেই সময় এই দুর্যোগটি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। বন্যার মূল কারণ ছিলো সারা দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত। একই সময়ে দেশের তিনটি প্রধান নদীর অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হয়। এই বন্যায় বাংলাদেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গ কিমি (সমগ্র দেশের ৬০% এরও অধিক) এলাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
* ১৯৯৮ সালের বন্যা
১৯৯৮ সালের বন্যা হয় আগস্ট মাসে। এতে ৬৮ শতাংশ এলাকার ১ লাখ ২৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার ব্যাপ্তি অনুযায়ী এটি ১৯৮৮ সালের বন্যার সাথে তুলনীয়।বলা হয়ে থাকে ১৯৯৮ সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি অঞ্চল প্লাবিত হয়। ব্যাপক বৃষ্টিপাত, একই সময়ে দেশের তিনটি প্রধান নদীর পানির প্রবাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই বন্যা ঘটে।
* ২০০৪ সালের বন্যা
২০০৪ সালে বন্যা হয় জুলাই মাসে। এতে বাংলাদেশের ৩৮ শতাংশ এলাকার ৫৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়।বন্যায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চালে ১৫ টি জেলে প্লাবিত হয়।অনেক এলাকায় নদী ভাঙনে হাজারো বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যায়।
* ২০০৭ সালের বন্যা
২০০৭ সালের বন্যাকে মহা বন্যা বলা বলে অবহিত করা হয়। ২০০৭ সালের বন্যা হয় সেপ্টেম্বর মাসে। এতে দেশের ৪২ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। যার মোট আয়তন ৬২ হাজার ৩০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়।২০০৭ সালে ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের বছর। বছরের শুরুতে উত্তরাঞ্চলে খরা, জুলাই মাসে ভয়াবহ বন্যা এবং নভেম্বর মাসে আঘাতহানে প্রলয়ঙ্কারি ঘূর্ণিঝড়।২০০৭ সালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের যে ক্ষতি হয় তা পূরণ হতে অনেক সময় লেগে যায়।
* ২০১৭ সালের বন্যা
বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে ২০১৭ সালের বন্যা ‘ভয়াবহতা ছিল ব্যাপক। তবে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যার তুলনায় ২০১৭ সালের বন্যার ব্যাপকতা কম ছিল। তবে পানিপ্রবাহ ও ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় এই বন্যা মাত্রা এলাকাভেদে ভিন্নতা রয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চল ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। এসব জেলায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পানির স্রোতে ভেঙ্গে যায় সড়ক, মহাসড়ক, বেড়িবাঁধ ও রেললাইন। এই বছরে ভারত, নেপাল ও ভুটানেও ব্যাপক বন্যা হয়।
* ২০২২ সালে বন্যা
বর্ষাকালের শুরুতে বৃষ্টির তেমন দেখা না মিললেও জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টির পরিমান বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ভারী বর্ষণ হওয়ার ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ভারী বর্ষণের ফলে সিলেট,সুনামগঞ্জ,মৌলোভীবাজার,কিশোরগঞ্জ ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা প্লাবিত হয়। বিশেষ করে সিলেট বিভোগে গত ৫০ বছরেও এমন ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েনি ।
গত কয়েক দিনে লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
এখন পর্যন্ত সারা দেশের ১১ টি জেলা প্লাবিত হয়েছে। এই সকল এলাকায় প্রাণহানি,ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ও জন জীবনে এক মহা বিপর্যয় নেমে এসেছে।সর্বশেষ তথ্য মতে বন্যার পরিস্থিতি এখনো চলমান ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএম/আরএএম