রোববার (১৯ জুন) নবনিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার লিলি নিকোলসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষতের সময় এমন মন্তব্য করেন।এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে নানা ধরণের সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে।রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে অনেকেই নারী পাচারসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। এছাড়া তারা মাদক পাচারও করে থাকেন বলে করে থাকেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দিয়েছে মিয়ানমার। এটি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ সময়ের একটা সমস্যা। বাংলাদেশ কতদিন এ বোঝা বহন করবে।
সাক্ষাৎকালে কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কানাডা সবসময় বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করবে।
বৈঠকে কানাডার হাইকমিশনার বাংলাদেশে দারিদ্র্য হ্রাসের হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।তার দেশ রোহিঙ্গাদের জন্য একটি অতিরিক্ত তহবিল গঠন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে কানাডা বাংলাদেশকে সমর্থন করছে। করোনার সময় কানাডা সবসময় বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে এবং মহামারির শুরু থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। কানাডা সরকারকে স্টুডেন্ট ডাইরেক্ট স্ট্রিম প্রোগ্রামে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছি ।
এসময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একমত হন যে, যুদ্ধ সর্বদাই জনগণের ভোগান্তির কারণ।
এ সময় অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ও মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।
নতুন রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা করেন যে, হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ক জোরদার করার জন্য তার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনে তাকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বাড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কানাডার সঙ্গে আরও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ উন্মুখ।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/সাখা/আরএএম