আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি না এলে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, বিএনপির অনুপস্থিতিতে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবেনা। আমি মনে করি, এই নির্বাচনে বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠে আনতে হবে এবং সেটার দায়িত্ব সরকারি দলকে নিতে হবে।
বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমার অনুরোধ থাকবে নির্বাচন বয়কট না করার। নির্বাচন বর্জন সমস্যার সমাধান নয়। আপনারা আলোচনা করে ঠিক করবেন কীভাবে নির্বাচনে যাবেন।
নূরুল হুদা বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন পরিচালনা করা ইসির জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ। তবে সেটি কমিশন চাইলে অতিক্রম করা সম্ভব। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি।
শনিবার (৪ জুন) তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সম্ভব’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মেয়াদ শেষের পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া নূরুল হুদার কাছে ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি একথা জানান। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে সিইসির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, পদত্যাগ করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। পদত্যাগ কাপুরুষোচিত বিষয় এবং এটি আমার পছন্দ নয়।
ইভিএমের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কে এম নূরুল হুদা বলেন, কর্মজীবনের শুরু থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তখন থেকে দেখেছি বিভিন্ন সময় ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হতো। ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের সেই কালচারটি ইভিএমের মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে। আমাদের অন্তত আরও ২০ বছর ইভিএমে থাকা উচিত।
তিনি বলেন, বন্দুকের নল এবং লাঠিচার্জ করে গণতন্ত্র কায়েম করা যায় না এবং উচিতও নয়। আমাদের দেশে যেটা হয় তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণ ভোট দিতে যাবেন স্বেচ্ছায়।
নির্বাচন চলাকালীন অবস্থার কথা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অন্যকোনো দেশে আমাদের মতো নির্বাচনের সময় যুদ্ধ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় না। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে যাবে, সেখানে কেন পুলিশ থাকবে, আর্মি থাকবে, বিজিবি থাকবে, র্যাব থাকবে, ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে? ১১-১২টা সংস্থা নির্বাচনকালীন দায়িত্বপালন করে। কেন?
এখানে থাকবে শুধু নির্বাচন ব্যবস্থাপনার লোক ও ভোটার। এই অবস্থার অবসান তাৎক্ষণিকভাবে হবে না। এর জন্য দরকার সময়, ধৈর্য এবং কালচার।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএইচ/আরএএম