ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধায় শেষ হলো বিশ্ব বাঙালি সংঘের আনুষ্ঠানিকতা
DhakaReport24.com || 2020-02-21 11:47:45
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শেষ হলো বিশ্ব বাঙালি সংঘের দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। ১৯ ফেব্রুয়ারি আলোক প্রজ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয় 'বিশ্ব বাঙালি পুরস্কার-২০১৯' এর আনুষ্ঠানিকতা। দিনব্যাপী চলে পুরস্কার বিতরণী, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবিতা পাঠ।
২০ ফেব্রুয়ারি বঙ্গের প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও দেখতে নিয়ে যাওয়া হয় ভারত থেকে আগত অতিথিদের। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে সংঘের আচার্য রাজু আহমেদ মামুনের নেতৃত্বে পশ্চিম বাঙ্গের অতিথিদের নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিশ্ব বাঙালি সংঘ।
এ সময় উপস্থিতি ছিলেন, অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, কবি পার্থ বসু, কোস্তভ ব্যানার্জি,মোঃজুয়েল,দেবাসিশ মজুমদার, লোকমান তাজ,
সানি, মিশন, রাকিব প্রমুখ্য।
এর আগে ভাষা সংস্কৃতি রক্ষা এবং তরুণ বাঙালিদের মানস গঠনে বিশেষ অবদান রাখায় ‘বিশ্ব বাঙালি পুরস্কার ২০১৯’ তুলে দেন বাংলাদেশ ও ভারতের ৫ জন কীর্তিমান বাঙালিকে।এঁরা হলেন প্রফেসর এমিরেটস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (বাংলাদেশ), অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় (ভারত), অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ (বাংলাদেশ), কবি পার্থ বসু (ভারত) এবং অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য (ভারত, সাবেক ভিসি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়)। এরপর শিশুদের হাতদিয়ে তুলে দেওয়া হয় পদক ও অর্থ।
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার সকাল ১০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বিশ্ব বাঙালি সংঘ (বিবাস) এর পক্ষ থেকে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংঘের আচার্য, কবি, সাংবাদিক- রাজু আহমেদ মামুন, অনুষ্ঠান সমন্বয়ক মজিব মহম্মদসহ অন্যান্য বিশিষ্ট্য জনদের উপস্থিতে প্রদান করা হয় এই পুরস্কার।
প্রাণের উদ্ভব থেকে বাঙালি জাতির বিকাশ অব্দি এক দীর্ঘ বক্তব্য শেষে রাজু আহমেদ মামুন বলেন-'মানুষ প্রজাতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাঙালি। এ জাতিকে যোগ্য করে গড়ে তোলা দরকার।তাতে সমগ্র মানুষ প্রজাতির লাভ। শুধু একা স্বপ্ন দেখলে তো হবে না, এ জন্য চাই সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা, চাই সংগঠন। আর পাঠচক্র থেকে গড়ে ওঠা সেই স্বপ্নের বোধি বৃক্ষের নাম-বিশ্ব বাঙালি সংঘ। কিন্তু জাতীয় সংকট মোকাবেলা বা জাতি বিনির্মাণের কাজটা আমরা শুরু করছি কেবল তা তো নয়! অনেক শ্রদ্ধাপদ অগ্রজ নিরলস ভাবে এ কাজ করে আসছেন অনেকদিন ধরে। কাজেই শুরুতে আমরা ভাবলাম- এই মহান অগ্রজদের চরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানোটাও কর্তব্য। তাই এই ‘বিশ্ব বাঙালি পুরস্কার’।'
সংগঠনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক মজিব মহম্মদ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট্য জনেরা।
দীর্ঘদিন নতুন প্রজন্মকে মুক্তচিন্তা এবং জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করে জাতি গঠনে বিশেষ অবদান রাখেন প্রফেসর এমিরেটস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পদক গ্রহণের পর তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পুরস্কার তো নানা রকমই হয়, অনেক পুরস্কারই পাই কিন্তু বিশ্ব বাঙালি সংঘের এই পুরস্কারে আমি সত্যই সম্মান বোধ করছি, আনন্দিত হয়েছি। তিনি বলেন, আমরা যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম আজ সেখান থেকে অনেক দূরে সরে এসেছি। শ্রেণী বৈষম্যহীন যে সমাজ চেয়েছিলাম তা পাইনি। এটা অর্জিত না হলে বাঙালির প্রকৃত মঙ্গল হবে না।
অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় একজন ইতিহাসবিদ ও পঞ্চাশের দশকে হওয়া বিহারের মানভূম-সিংভূম বাংলা ভাষা আন্দোলনের কর্মী।তাঁর পরিবারও এই ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।পদক গ্রহণের পর তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ এই সম্মানের জন্য। এ দেশের মানুষ বাংলা ও বাঙালি জাতিকে যেভাবে ধারণ করে বাঁচিয়ে রেখেছেন তা নিশ্চয়ই শ্রদ্ধা করার মতো।
বাংলাদেশের আশি লক্ষ্যের অধিক শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বই পড়া আন্দোলনে যুক্ত করে, উন্নত জাতিগঠন প্রক্রিয়ায় বিশেষ অবদান রাখেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।পদক গ্রহণের পর তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাকে এই পুরস্কারে মনোনীত করায় আমি কিছুটা বিস্মিত কারণ ইদানীং তো আমার বাঙালিত্ব নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। ধন্যবাদ বিশ্ব বাঙালি সংঘকে। আমি সারা জীবন চেষ্টা করেছি তরুণদের মননের বিকাশ ঘটাতে বইয়ের মাধ্যমে। কেননা বাঙালি সংখ্যায় একটি বড় জাতি কিন্তু বড় জাতি আর ছোট মন এক সাথে যায় না। তাই আমাদের চেষ্টা হোক মননের বিকাশ। ধন্যবাদ বিশ্ব বাঙালি সংঘকে এই পুরস্কার প্রদানের জন্য।
ক্রমশই পশ্চিমবঙ্গে কোনঠাসা হয়ে পড়া বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় গড়ে ওঠা বাংলাপক্ষ আন্দোলনের রূপকার, ভাষাযোদ্ধা, কবি পার্থ বসু পদক গ্রহণের পর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ভারত জুড়ে বাংলা ও বাঙালি আজ বিপন্ন। আমরা বাংলাপক্ষ সহ অনেক সংগঠন লড়াই করে যাচ্ছি এই সংকটে। বাঙালিদের দেশ বাংলাদেশের মানুষের সহমর্মিতা ভালবাসা আমাদের অনুপ্রেরণা। কারণ দিন শেষে আমরা তো একটি জাতি- বাঙালি। কৃতজ্ঞ বিশ্ব বাঙালি সংঘের প্রতি।
সম্প্রতি আসামে বিপন্ন বাঙালিদের পক্ষে কলম যোদ্ধা হয়ে সম্মুখ সমরে লড়াই করছেন লেখক অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য। তিনি আসতে না পারলেও পাঠিয়েছেন তাঁর প্রতিনিধি এবং অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সেমিনারে উত্থাপিত প্রবন্ধ 'সাম্প্রতিক বিশ্বে বাঙালি:সংকট এবং সম্ভাবনা'। এই পর্বের সভাপতীত্ব করেন অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় এবং অনুষ্ঠিত হয় মুক্ত আলোচনা। অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে কবি শামীম রেজার সভাপতীত্বে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এইচএমএল