বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

>> ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তন চান ভোটাররা : ভ্যান্স

>> ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু

>> ইয়েমেনে সৌদির ব্যাপক হামলা, নিহত ২০

>> জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেফতার ইকবাল সোবহান

>> জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত

>> মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

>> একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

>> প্রমাণ মিলেছে যৌন হয়রানির রিপোর্ট কখনই প্রকাশ করবে না বিসিবি

>> মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় চাহিদা ৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার


DhakaReport24.com || 2020-02-13 11:39:15
 রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় চাহিদা ৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার



রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) ২০২০-এর খসড়া তৈরি করেছে জাতিসংঘ। জেআরপির খসড়া পরিকল্পনায় সংকট মোকাবেলায় চলতি বছর বিভিন্ন খাতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর (কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের  বাসিন্দা) প্রায় ১৩ লাখ মানুষের জন্য ৮৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের চাহিদা প্রাক্কলন করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে খাদ্যনিরাপত্তায়। জাতিসংঘ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

খসড়া জেআরপি ২০২০ থেকে জানা যায়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি খাতে ভাগ করে অর্থায়নের প্রাক্কলন করেছে জাতিসংঘ। আগের জেআরপিগুলোর মতো এবারো খাদ্যনিরাপত্তায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের ৪ লাখ ৪৪ হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ও ৮ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২ লাখ ৮৪ হাজার মানুষকে খাদ্যনিরাপত্তার আওতায় আনতে প্রয়োজন হবে ২৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এর পরই ডব্লিউএএসএইচ (ওয়াশ) প্রকল্পে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন হবে ১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। আশ্রয়কেন্দ্র খাতে চাহিদা ধরা হয়েছে ১১ কোটি ১২ লাখ ডলার। এছাড়া সাইট ব্যবস্থাপনার জন্য ৯ কোটি ৫৩ লাখ, সুরক্ষায় চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজন হবে ৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। শিক্ষার জন্য ৬ কোটি ৯০ লাখ, পুষ্টির জন্য ৩ কোটি ৯৯ লাখ, কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ১ কোটি ডলার, সমন্বয়ের জন্য ৩৬ লাখ ডলার, সরবরাহের জন্য ১৪ লাখ ডলার এবং জরুরি প্রয়োজনে ২৫ লাখ ডলারের চাহিদা প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আসার পর থেকে প্রতি বছরই জেআরপি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। আগের বছরগুলোর মতো এবারো অর্থায়নের প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে তা জোগাড় করা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ চাহিদা অনুযায়ী অর্থের সংস্থান কোনোবারই আসেনি। রোহিঙ্গা সংকটটি একা বাংলাদেশের নয়। তাই এর মোকাবেলা একা বাংলাদেশ করবে না। বিশ্বের সব দেশকে সঙ্গে নিয়ে এর একটি টেকসই সমাধানে কূটনৈতিক তত্পরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ সূত্রে জানা গেছে, ৬১টি জাতীয় (বাংলাদেশ) এনজিও, ৪৮টি আন্তর্জাতিক এনজিও এবং আটটি জাতিসংঘের সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এতে শুধু রোহিঙ্গারাই নয়, স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীও সুবিধা পাবে। এ জেআরপির অনুমোদন আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে।

জেআরপি ২০২০-তে জাতিসংঘ বলছে, বেশির ভাগ রোহিঙ্গা নাগরিক বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির এটি তাদের তৃতীয় বছর। রোহিঙ্গারা বারবারই বলছে, তারা বাড়ি ফিরে যেতে চায়। তবে যখন সম্পূর্ণ নিরাপত্তা পাবে, তখন তারা ফিরে যাবে। সেই সঙ্গে মৌলিক অধিকার ও সেবাগুলো পাওয়ার নিশ্চয়তার পাশাপাশি মিয়ানমারের নাগরিকত্ব পেলে রোহিঙ্গারা বাড়ি ফিরে যাবে। জাতিসংঘ বলছে, এ সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই রয়েছে। ২০২০ সালে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ মিয়ানমার সরকারকে সহযোগিতা করবে।

এতে বলা হয়েছে, জেআরপি ২০২০-তে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে চায় জাতিসংঘ। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সমস্যার মানসম্পন্ন সমাধানও চায় সংস্থাটি।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় দুই হাজার একর জমির ওপর থাকার জায়গা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এটাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়শিবির।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এইচএমএল