ঈদুল ফিতরের সময় যাত্রী পরিবহনে অগ্রাধিকার দেওয়ায় উত্তরাঞ্চলে রেলের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, দেশে অকটেন ও পেট্রলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কোনো সংকট নেই।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলে পেট্রল ও অকটেনের সংকট সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৯ মে) রাতে মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্রেতাদের অতিরিক্ত দামে অকটেন ও পেট্রল না কেনার আহ্বান জানিয়ে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
প্রকাশিত সংবাদপত্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে সারাদেশে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী দেশে অকটেন ও পেট্রলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মে ও জুন মাসের প্রয়োজন অনুযায়ী অকটেন আমদানির সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই সূচি অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহেই জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে।
‘অন্যদিকে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশিয় বেসরকারী প্ল্যান্টগুলোতে অকটেন ও পেট্রল উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, যা জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ আরও সুসংহত করবে।’
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আরও জানায়, দেশীয় উৎপাদন দিয়ে পেট্রলের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা হয়ে থাকে। দেশে অকটেন ও পেট্রলের স্বাভাবিক গড় মাসিক চাহিদা যথাক্রমে প্রায় ৩৬ হাজার টন এবং ৩৯ হাজার টন। বর্তমান মজুত, আমদানি পরিকল্পনা এবং দেশীয় উৎপাদন দিয়ে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
খুলনার দৌলতপুর থেকে পার্বতীপুর ও চট্টগ্রাম থেকে রংপুরে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী পরিবহনে প্রাধান্য প্রদানসহ ইঞ্জিন স্বল্পতার কারণে উক্ত ডিপোগুলোতে অকটেন ও পেট্রল সরবরাহে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে বর্তমানে সারাদেশে অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাছাড়া, অন্যান্য জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি সংকটের কথা বলে কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে অকটেন ও পেট্রল বিক্রি করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্রেতা সাধারণকে কোনোভাবেই নির্ধারিত মূলোর চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে অকটেন ও পেট্রল ক্রয় না করার অনুরোধ করা হলো।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমআই/আরএএম