পবিত্র মাহে রমজানের শেষে মুসলমানদের সবচাইতে বড় খুশির খবর নিয়ে ধনী গরীব সকলের ঘরে আনন্দের বন্যা নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। এর মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার পথশিশুদের ঈদের আহাযারী।
নেই একমুঠো ভাতের ব্যবস্থা, নেই একটি নতুন জামা তবুও ঈদ বলে কথা। পথশিশুরা ও জানে ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু যাদের ঘর নেই, বাড়ি নেই, থাকার কোন জায়গা নেই; তাদের ঈদ আনন্দ কী অন্য সবারমত? না, ঈদ আসে, ঈদ যায়, কিন্তু সেই ঈদ কখনই তাদের জন্য উৎসব হয়ে ওঠেনা। পথশিশুদের না খেয়ে খুশি থাকে সবসময়। ঈদের দিন দেখা গেছে কমলাপুর রেল স্টেশনের আশেপাশে বসে নিজের হাত-পায়ে মেহেদীর রং মাখানোর চেস্টা করেছেন একদল পথশিশু।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় আরও দেখা যায় পথশিশুরা রান্না করছে, আর নি:পাপ শিশুগুলো মনের আনন্দে উদ্যানেই খেলছে। রোদে শুকায়, আবার বৃস্টি হলে ভিজে। ঈদ আনন্দ কী তা তারা বলতেই পারেনা।
আমরা স্বাভাবিকভাবে যেটা দেখি উসৎব হয় মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের শ্রেণীতে যেমন— ঈদের দিন তারা নতুন জামা পরবে, হাতে মেহেদি লাগাবে, বাবা-মায়ের কাছ থেকে নতুন টাকার সেলামি নেবে, বাসায় ভালো খাবার-দাবারের ব্যবস্থা থাকবে। তবেই না সেটা উৎসবে পরিণত হবে। পথশিশুরা এই উৎসবে অন্তর্ভুক্ত নয় কারণ তাদের না আছে নতুন জামা, না আছে ভালো খাবারের ব্যবস্থা। আর হাতে মেহেদি লাগানো এবং নতুন টাকার সেলামি পাওয়া তো স্বপ্নের ব্যাপার। তাদের কাছে ঈদের দিন অন্যান্য দিনগুলোর মতই সাদামাটা। সারাদিন খাটা-খাটুনি করে একবেলা খাবার জোগাড় করা, এটাতো আর ঈদ উৎসব হতে পারে না।
আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় যাকাতের টাকায় শিশুদের বাবা-মায়ের জন্য শাড়ি, লুঙ্গির ব্যবস্থা থাকলেও শিশুদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এখানেও শিশুরা চরম বৈষম্যের শিকার।
ঈদের আনন্দটা যে শিশুদের ঘিরেই এই ব্যাপারটা মনে হয় মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ঈদের আনন্দ নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল পথশিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল তরুণ। তারা চিন্তা করতে থাকে, কিভাবে ঈদের আনন্দ ছিন্নমূল পথ শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
এদের মধ্য একজন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গিত শিল্পী সমাজ সেবক মাসুমবিল্লাল ফারদিন। তিনি পবিত্র রমজান মাসে রাজধানীসহ সারাদেশের পথশিশু ও অসহায় মানুষের মাঝে নতুন পোষাক, খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরণ করে আসছে। শুধু পথ শিশুদের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে একটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে অনেকেই পথশিশুর জন্য নতুন জামা উপহার হিসেবে দিয়েছেন। শুধু আনন্দ বিলিয়ে দেওয়ার জন্য।
ঢাকার রামপুরা থেকে শুরু করে, খিলগাঁও বস্তি, কমলাপুর স্টেশন, সোহরাওয়ার্দি উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য, চন্দ্রিমা উদ্যান, গাবতলী মাজার রোড, মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা হয়ে বিমানবন্দর স্টেশনে এসে শেষ হয় পথশিশুদের নতুন জামা বিতরণের কার্যক্রম। পথশিশুদের নতুন জামার পাশাপাশি দেওয়া হয় নতুন খামে নতুন টাকার ঈদ সেলামি বিতরণ করেছেন তরুণ সমাজ সেবকরা।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম