শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : পটুয়াখালী

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে বৃদ্ধিতে অসহায় হয়ে পড়েছে কুয়াকাটার জেলেগোষ্ঠী


জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)- প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2023-03-31 11:41:15
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে বৃদ্ধিতে অসহায় হয়ে পড়েছে কুয়াকাটার জেলেগোষ্ঠী

কুয়াকাটার জেলে আব্দুর রশিদ মাঝি, গভীর সমুদ্র থেকে মাছ শিকার করে প্রতিনিয়ত বাজারে বিক্রি করে, তার অর্থনৈতিক চাহিদা মিটায়। সেই ধারাবাহিকতায় ৩১ তারিখ (শুক্রবার) চার কেজি ফাইসা মাছ বিক্রি করে ৩০০টাকায়। রশিদ মাঝীর ছোট্ট ছেলেটির আবদার ছিল মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খাবে, নিজেরও ইচ্ছে ছিল মাংস দিয়ে ইফতারি টা সেরে ফেলবে, ছেলের আবদার ও নিজের ইচ্ছায় ২৭০ টাকা দিয়ে এক কেজি ওজনের একটি পোল্টি মুরগি কিনে খালি পকেটে বাসায় আসেন তিনি। হঠাৎ এমনভাবে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে জেলেপল্লীর পরিবারসহ অসহায় ও নির্ণয়ের মানুষগুলো। মুগী হাতে মলিন মুখে বাসায় থাকা ছোট্ট ছেলের সামনে খালি হাতে ফিরে এসেছে রশিদ মাঝি। এমন রশিদ মাঝি মত অসহায় হয়ে পড়ছে কুয়াকাটা হাজারো জেলে পরিবার।

গত দুই বছর করোনা মহামারির সঙ্গে লড়াই করে কেটেছে জেলেসহ নিম্ন আয়ের মানুষের  জীবন। সেই ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে জেলে পল্লী মানুষের জীবন এমনিতে চরম সঙ্কটে। চিকিৎসা, বাসস্থান, বস্ত্রের মতো মৌলিক চাহিদাগুলোতে ব্যয় কমিয়ে ফেলেছে তারা এর মধ্যে করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি।স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও টিকা নিয়ে হয়তো করোনাভাইরাস ঠেকানো সম্ভব; কিন্তু নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে রীতিমতো অসহায় জেলেপল্লীর হাজার জেলে পরিবার।

জেলেদের আয়ের বড় অংশই খরচ করতে হচ্ছে ক্রাশিং তেল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম এর পিছনে। আবার অনেকেই সমুদ্রের দূরে গিয়ে যে মাছ ধরত, এখন কিনারায় বসে মাছ শিকার করছে, এর কারণ হচ্ছে বাড়তি ব্যয় মেটাতে। অনেকের জেলে পরিবারের সন্তানের লেখাপড়াতেও ছেদ পড়েছে। জীবনধারণের উপযোগী প্রতিটি জিনিসের অগ্নিমূল্য। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তেল, তরিতরকারি, ফলমূল, চিনি, লবণ, গম, আটা, রুটি, বিস্কুট ইত্যাদি দ্রব্যের মূল্য আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

রশিদ মাঝি বলেন, দিন দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, এবং এমন দাম বাড়ায় অসহায় হয়ে পড়ছে তারা। তিনি আরো বলেন আমরা যখন মাছ বিক্রি করি তখন আর কোন কিছু দাম বৃদ্ধি পায় না, কিন্তু কোন কিছু কিনতে গেলে চড়া দামে কিনতে হয়, এখন দেখতেছি করোনার চাইতো ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়।

সামাজিক সংগঠন কুয়াকাটা শুভ সংঘ ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলো। জেলেদের পল্লীগুলোতে চলছে হাহাকার।

 

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম