মহেশখালী উপজেলা মাতারবাড়ী ইউনিয়ন দক্ষিণ সাইরার ডেইল সরকারী প্রাথমমিক বিদ্যালেয়র তিন মাস পাঁচ বছর বয়েসি প্রথম শ্রেণির এক শিশু'কে ধর্ষণ করে মেরে পেকুয়া থানা ডেউয়াখালী উজানটিয়া নদীতে পুঁতে দেয় টেকনাফ উপজেলা হোয়াইক্যং ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ডের (চাকমার কূল) উত্তর হ্নীলা গ্রামের ছৈয়দ করিম'র পুত্র নিরব ঘাতক মোঃ সোলাইমান (২৫)।
জানা যায়,খুনি মোঃ সোলাইমান মাতারবাড়ী উত্তর সিকদার পাড়া আলতাফ হোছাইনের মেয়ে শাহিদা আক্তারের স্বামী।খুনি মোঃ সোলাইমান কথিত শ্রমিক নেতা মূসা কলিম উল্লাহ'র অধীনে দিন মজুরিতে মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করতেন।পাশবিক নির্যাতনে নিহত শিশু মাহিয়ার পিতা আয়াতুল্লাহ'র বাড়িতে খুনি মোঃ সোলাইমান ভাড়ায় থাকতেন।
যেভাবে খুনি মোঃ সোলাইমান নিহত শিশু মাহিয়ার পিতা আয়াতুল্লাহ'র বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকার কথা বলে পুরো হত্যাকান্ড সংঘটিত করেন।
১৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে ২১ নভেম্বর চারদিন পর্যন্ত মাতারবাড়ী দক্ষিণ সাইরার ডেইল ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পাশবিক নির্যাতনে নিহত শিশু মাহিয়ার পিতা আয়াতুল্লাহ'র (৩৫) বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকার জন্য শিশু মাহিয়ার খুনি মোঃ সোলাইমান অবস্থান করেন।২১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত শিশু মাহিয়ার পিতা আয়াতুল্লাহ'র বাড়ি থেকে আয়াতুল্লাহ'র আর এক ভাই বশির'র (৪০) বাড়িতে অবস্থান করেন।
৩০ নবেম্বর মঙ্গলবার শিশু মাহিয়া একটা ত্রিশ মিনিট স্কুল ছুটির পর এসেম্বলি ক্লাস শেষে একটা চল্লিশ মিনিটে বাড়ি ফেরে।শিশু মাহিয়ার ছোট ভাই মলত্যাগ করায় মাহিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে দশ মিনিট পর আবার বাড়িতে ফিরে আসে।শিশু মাহিয়ার পরনে তখন হাফ প্যান্ট ছিল শরীরে গা জামা ছিল না বিষয়টি শিশু মাহিয়ার মা'য়ের সন্দেহ হলে তিনি দেখতে পান শিশু মাহিয়ার স্পর্শকাতর স্থানে প্যান্টের উপরে রক্তের ছোপ।শিশু মাহিয়ার মা বিষয়টি পাত্তা না দিয়ে বাড়ির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।আসরের নামাজের পর খুনি মোঃ সোলাইমান মাহিয়ার মা'য়ের থেকে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার দিতে বলেন শিশু মাহিয়ার মা নাম্বার দিতে অস্বীকৃতি জানান পরে খুনি মোঃ সোলাইমান দ্বিতীয়বার মোবাইল নাম্বার চায়লে মাহিয়ার মা লিখতে জানেনা বলে জবাব দেন।পাঁচ মিনিট পর খুনি মোঃ সোলাইমান খাতা আর কলম নিয়ে আসলে শিশু মাহিয়ার মা তাঁর স্বামী আয়াতুল্লাহ'র মোবাইল নাম্বারটি দেন।
খুনি মোঃ সোলাইমান মোবাইল নাম্বার নিয়ে চলে যান।শিশু মাহিয়া'কে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আয়াতুল্লাহ তাঁর বড় ভাই হাফেজ নাসির'কে আনুমানিক চারটার সময় কল দিয়ে শিশু মাহিয়া'কে খোঁজে না পাওয়ার বিষয়টি জানান।ঐ দিনই শিশু মাহিয়া'কে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুরো এলাকায় মাইকিং করা হয়।
১ তারিখ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত মোবাইল নাম্বার থেকে শিশু মাহিয়া'কে অপহরণের দাবী করে খুনি মোঃ সোলাইমান পাঁচ লক্ষ টাকা দাবী করে বলেন"তুর মেয়ে আমার কাছে আছে পাঁচ লক্ষ টাকা দে নাহলে এখানেই কিচ্ছা কাহিনি সব শেষ করে দিব।তুরে (আয়াতুল্লাহকে) ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলাম।"।তখন অশ্রুসিক্ত কন্ঠে শিশু মাহিয়ার পিতা আয়াতুল্লাহ বলেন"যত টাকা লাগে আমি দিব ভাই তুমি শুধু আমার মেয়ের একটু কান্না শুনাও এবং টাকা কাকে কোথায় দিব বল?"খুনি মোঃ সোলাইমান বিকাশ নাম্বার দিবে বলেও বিকাশ নাম্বার দেয়নি।
২ ডিসেম্বর শিশু মাহিয়া'র পিতা আয়াতুল্লাহ মহেশখালী থানায় নিখোঁজ ডায়রি করান।
মহেশখালী থানার মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের এসআই হাসান মাহমুদ প্রাথমিক তদন্ত করতে মাঠে নামলে খুনি মোঃ সোলাইমান শিশু মাহিয়ার পিতা আয়াতুল্লাহ'কে সেদিনই মুঠোফোনে কল দিয়ে বলেন"তুই আমার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছিস আমার বিরুদ্ধে জিডি করে লাভ হবে না আমি সব জানি"বলে হুমকি দেন।শিশু মাহিয়ার পিতা বলেন,আমি থানায় জিডি করেছি সে কিভাবে জানে?আয়াতুল্লাহ'র মনে সন্দেহ ঘনীভূত হতে থাকে।সন্দেহের তীর খুনি মোঃ সোলাইমান'র স্ত্রী শাহিদা আক্তারের দিকে।খুনি মোঃ সোলাইমানের স্ত্রী শাহিদা আক্তারই মহেশখালী থানায় নিখোঁজ ডায়রি করানোর তথ্যটি খুনি মোঃ সোলাইমানকে দেন বলে দাবী করেন নিহত শিশু মাহিয়ার পিতা আয়াতুল্লাহ।
২ ডিসেম্বর নিখোঁজ ডায়রির সূত্র ধরে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহেশখালী থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহ জনক সব স্থানে তল্লাশি চালিয়ে শিশু মাহিয়ার খুনি মোঃ সোলাইমান'কে সনাক্ত করতে সক্ষম হন।খুনি মোঃ সোলাইমান স্বীকার করেন"আমি মাহিয়া'কে ধর্ষণ করে খুন করেছি পরে তাঁর পিতার কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করি"।খুনি মোঃ সোলাইমান আরো স্বীকার করেন,"আছমা আক্তার নামে আমি আরো একজন'কে খুন করি"।এই ঘটনায় টেকনাফ থানায় ৪ নভেম্বর ২০১৮ সালে খুনি মোঃ সোলাইমান'র বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
৫ ডিসেম্বর আনুমানিক সন্ধ্যা সাতটা বাজে মাতারবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের এসআই হাসান মাহমুদ খুনি মোঃ সোলাইমান'র ব্যবহৃত সিম নাম্বারটি উদ্ধার করলেও এই বিষয়ে এসআই হাসান মাহমুদ সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি।এসআই হাসান বলেন,"সিমটি মহেশখালী হোয়ানক ইউনিয়নের এক লোকের নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত কিন্তু লোকটি কে আমি বলতে পারবনা,জব্দকৃত মালামাল আদালত প্রেরণ করব"
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ প্রণব চৌধুরী বলেন,প্রত্যেকটি শিশুই আগামীর ভবিষ্যৎ নৃশংস এই হত্যাকান্ড ঘৃণ্য,বর্বরোচিত।খুনি মোঃ সোলাইমান'র স্বীকারোক্তি মতে নিহত শিশু মাহিয়ার হত্যাকারী মোঃ সোলাইমান'র বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।প্রণব কুমার চৌধুরী আহবান জানিয়েছেন প্রত্যেক শিশুর মাতা পিতাকে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।
শিহত শিশুর পিতা আয়াতুল্লাহ দাবী করেন,এই হত্যাকান্ডের পিছনে খুনি মোঃ সোলাইমান'র স্ত্রী শাহিদা আক্তার ও তাঁর শ্যালিকা জড়িত আছে।খুনি মোঃ সোলাইমান সহ জড়িত সবাইকে শাস্তি দিতে হবে।
দক্ষিণ সাইরার ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোনাফ বলেন,নিহত শিশু মাহিয়া আমার স্কুলের ১ম শ্রেণির পড়ুয়া।মাহিয়া ছিল শান্ত স্বভাবের।মাহিয়ার মৃত্যুতে আমি ও আমার শিক্ষকেরা গভীর শোকাভিভূত।আমরা শিশু মাহিয়ার খুনি মোঃ সোলাইমান'র বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত দ্রুত বিচার আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি।