শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : কক্সবাজার

পাহাড়ের কান্না দেখে তোমরা তাকে ঝরণা বলো

 ওই পাহাড়টা বোবা বলেই কিছু বলে না

মহেশখালী প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2022-10-15 00:22:30
পাহাড়ের কান্না দেখে তোমরা তাকে ঝরণা বলো

"পাহাড়ের কান্না দেখে তোমরা তাকে ঝরণা বলো ওই পাহাড়টা বোবা বলেই কিছু বলে না" গীতিকার রফিকউজ্জামানের লেখায় বিখ্যাত গানটি গেয়েছিলেন প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। বলছিলাম বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড়ের কথা। এই পাহাড় গুলো বোবা বলে নির্বিচারে রাতের আঁধারে কখনো দিনে দুপুরে পাহাড় কাটা হয়। মহেশখালী হোয়ানক ইউনিয়ন সাতঘরিয়া পাড়ায় পাহাড় কাটার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ বিরোধী এই চক্রটি পাহাড় কেটে আসছে। আর এদিকে পাহাড়ের হয়ে সুখ দুঃখের কথা বলার জন্য বন বিভাগ থাকলেও মহেশখালী বনবিট রেঞ্জার খান জুলফিকার আলী মুখে কুলুপ এঁটে নির্বিকার বসে আছে।

১৪ অক্টোবর (শুক্রবার) মহেশখালী হোয়ানক সাতঘরিয়া পাড়ায় রাত দশটার সময় পাহাড় কাটার গোপন সংবাদ পেয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়াছিন এর নির্দেশে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (ওসি) প্রণব চৌধুরীর নেতৃত্বে সাব-ইন্সপেক্টর আবু বক্কর সিদ্দিক সহ পুলিশের একটি চৌকস টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি কাটার যন্ত্রপাতি ও পাঁচটি ডাম্পার গাড়ি জব্দ করেন। বলা যায়, পরিবেশ সুরক্ষায় একটি সফল অভিযান। 

ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, মহেশখালীতে সবুজায়নের জন্য প্রকৃতি বিরোধী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সরকারের দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে লড়াই করে যাব। ১৫ অক্টোবর (শনিবার) পাহাড় কাটার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এসআই সজল কান্তি দাশ বাদী হয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ১৫ এবং বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫ ধারায় মহেশখালী থানায় একটি মামলা করেন।

অভিযুক্তরা হলেন, জাহেদ সিকদার (৩০) পিতা- মৃত শামসুল ইসলাম, দক্ষিণ কুল ছোট মহেশখালী, স্বপন পাল (৪৫) পিতা- মৃত সুভাষ পাল, পালপাড়া মহেশখালী পৌরসভা,  সারোয়ার (৩৮) পিতা- আবুল হাশেম প্রকাশ সুইননা, নলবিলা ছোট মহেশখালী, সেলিম প্রকাশ সল্লু (৩০) পিতা- মৃত রশিদ আলী, জৈয়ারকাটা,পানির ছড়া, হোয়ানক, মহেশখালী এবং অজ্ঞাত নামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয় যার মামলা নং ৯। 

সরজমিনে দেখা যায়, হোয়ানক পানির ছড়া মেইন রাস্তা থেকে মাটি কেটে পাহাড়ের বুক চিরে দীর্ঘ আধা কিলোমিটার রাস্তা তৈরী করেছে পরিবেশ বিরোধী এসব চক্র। পরিবেশ বিধ্বংসী এসব কাজে স্থানীয় যুবকদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পাহাড়ের মাটি কাটা, পরিবহন ও যোগাযোগের জন্য তাদের ব্যবহার করা হয়। সাংবাদিক কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কেউ আসলে নজরদারী করাই তাদের কাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্য বয়সী এক মহিলা জানিয়েছেন, বন বিভাগের যোগসাজশে পাঁচ বছর ধরে পাহাড় কেটে আসছে।বর্তমানে পাহাড় আর পাহাড় নাই কেটে বিরান ভূমিতে পরিণত করেছে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম