শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : কক্সবাজার

কক্সবাজারে প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া, নিরাপত্তাহীনতায় অসহায় পরিবার


DhakaReport24.com || 2022-06-17 21:36:00
কক্সবাজারে প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া, নিরাপত্তাহীনতায় অসহায় পরিবার

কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়াপাড়ায় গত ২২ এপ্রিল প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি দু'জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয় এবং গুরুতর আহতদের মধ্যে বর্তমানে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুরুশকুলের কুলিয়াপাড়ার ফারুক ও রাশেদের মাঝে দীর্ঘদিন জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে জুমার নামাজের পর দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ফারুকের অভিযোগ, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রাশেদের ভাই আবু সুফিয়ান ও তাদের পক্ষের মনজুরের ভাতিজা বাবু এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে তিনিসহ ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের মধ্যে ইফতাদুলসহ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাশেদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় গত (২৪ মে) ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি  করে এজাহার দায়ের করেন খুরুশকুলের ৯নং ওয়ার্ডের কুলিয়াপাড়ার সৈয়দ আহমেদের পুত্র আনিসুর রহমান।

আসামিরা হলেন, কুলিয়া পাড়ার মৃত আবু তাহের পুত্র আবু সুফিয়ান, মনজুর মোরশেদ মঞ্জু, রাশেদুল ইসলাম, শামসুল আলম ও মোস্তাক আহমদের পুত্র সাখাওয়াত হোসেন বাবু। 

আবু সুফিয়ান ও শামসুল আলম কারাগারে থাকলেও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও হুমকি দিয়ে আসছে রাশেদ বাহিনীর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। এই গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড সাখাওয়াত হোসেন বাবু। বর্তমানে আনিসুর রহমান ও তার পরিবার এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকি ও অত্যাচারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাশেদ বাহিনীর প্রধান রাশেদ ও তার সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন বাবু বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আবারো জমি দখলের পাঁয়তারায় লিপ্ত। হাইকোর্ট থেকে অস্থায়ী জামিনে এসে কয়েকদিন পর পর এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে এই বাহিনী। বাহিনীর প্রধান রাশেদকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা না হলে আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। এছাড়াও রাশেদ বাহিনীর বিরুদ্ধে মাদক অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুরুশকুলের একজন ইউপি সদস্য বলেন, রাশেদ এবং তার বাহিনী মিলে অন্যায়ভাবে সমাজের মধ্যে দাপট দেখিয়ে সর্বদা রাজত্ব কায়েম করে আসছে। তারা এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করে না। এছাড়াও এই বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যুবসমাজকে ধ্বংসকরী মরণনেশা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। আমরা এলাকার সচেতন মহল, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে সন্ত্রাসী বাহিনীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানাচ্ছি। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোহাম্মদ আমজাদুর রহমান বলেন, এই মামলায় আমরা দুজন আসামিকে আইনের আওতায় এনেছি। বাকি তিন জন আসামি হাইকোর্ট থেকে অস্থায়ীভাবে জামিন নিয়েছেন। যদি তারা আবারো কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকেন, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনীর উল গিয়াস বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যারাই পরিচালনা করুক না কেন, তাদের কোনো ছাড় নেই। সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএন/আরএএম