নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জারি করা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটা থেকে প্রধান ফটকসহ সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সময় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সোনাপুর-চর জব্বর সড়ক অবরোধ করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি অন্যায়ভাবে প্রশাসন এমন বহিষ্কার আদেশ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গেট বন্ধ করে আন্দোলন করায় ভিতরে আটকা পড়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ আবদুস সালাম হলে দুই দল ছাত্রের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনজন শিক্ষার্থীকে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য বহিষ্কার এবং সর্বনিম্ন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় আরও তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সতর্ক করা হয়। এ ছাড়া আরও একটি ঘটনায় অপর এক শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বহিষ্কারসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে নোটিশ জারি করার পর বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ও তাঁদের সহপাঠীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিকেল চারটার দিকে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সব ফটক তালা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ছুটে মুল ফটকে আসেন প্রক্টর নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুরসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। তাঁরা শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে ব্যর্থ হন। চলমান আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বার বার কথা বলতে দেখা যায় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি আদায় থেকে সরে যেতে নারাজ।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছোট একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের কয়েকজনকে অনেক বেশি শাস্তি দিয়েছে।এতে করে শিক্ষার্থীদের ছাত্র জীবন হুমকির মুখে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএইচ/আরএএম