প্রায় সাড়ে তিন একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সোনাইমুড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজ। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেশ নামডাক ছিল নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ীতে অবস্থিত এ কলেজটির। ২০১৮ সালে জাতীয়করণের জিও জারির মধ্যে দিয়েএ অঞ্চলের প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ পায় এ কলেজটি। জেলাজুড়ে নাম-ডাকের কারণে কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। এবং ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭৫ জন অথচ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত বিদ্যাপীঠটি তার পুরনো জৌলুস হারিয়ে ধুঁকছে। নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে সরকারি কলেজটি। পরিত্যক্ত ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। যেকোনো সময় ভবন ধসে ঘটতে পারে হৃদয়বিদারক ঘটনা।
সরেজমিনে কলেজ পরিদর্শন করে দেখা যায়,গত বিশ বছর ধরে নির্মাণের পর থেকেই ফাটল ধরা কলেজের তিনতলা বিজ্ঞান ভবনটিতেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দোতলা ভবনটি প্রায় ১৫বছর ধরে ফাটল ধরে রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের স্যাঁতসেঁতে মেঝের ওপর পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে এক কক্ষে গাদাগাদি করে বসে মনোযোগসহ শিক্ষকের লেকচার শুনছে শতাধিক শিক্ষার্থী। প্রতিবেদকের সামনেই শিক্ষার্থীদের মাথায় ধসে পড়ছে আস্তর। এছাড়াও ইতিমধ্যেই ধসে পড়েছে সড়কের পাশে থাকা কলেজের গেইট।
কলেজের মেঝেটিও উঁচুনিচু হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মেঝের মাঝখানের রডগুলোও অকেজো হয়ে পড়েছে। কলেজের প্রশাসনিক ভবনের চিত্রও একই রকম।
উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি শ্রেণির নিয়মিত ও অনিয়মিত প্রায় প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে কলেজটিতে। দূরের শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজে নেই কোনো ছাত্রাবাস। কলেজের প্রতিটি কক্ষের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনের বিম ফেটে খসে পড়ছে বালু-সিমেন্টমিশ্রিত খোয়া। পলেস্তারার আঘাতে মাঝেমধ্যেই আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে ছাত্রীদের নামমাত্র কমন রুমের মধ্যে নিতে হচ্ছে পরিক্ষা ও ক্লাস।
কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ব্যবসা শিক্ষার ছাত্রী রাবেয়া আক্তার সুমি বলেন, অনেক আশা করে আমি এ কলেজটি সরকারি কলেজ ভেবে ভর্তি হয়েছি। আমরা জানতাম বেতন বিশ টাকা কিন্তু এখানে এসে দেখি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতোই বেতন নিচ্ছে ২শ টাকা। কিন্তু কলেজের জরাজীর্ণ ভবনের দৃশ্য দেখে আমার খুব ভয় হয়। কখন জানি ভবনটি ধসে পড়ে। কর্তৃপক্ষ এই কলেজটির বিষয়ে কেন এত উদাসীন তা আমার বোধগম্য নয়।
কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, আমাদের কলেজে পড়াশোনার মান খুবই ভালো। কিন্তু শিক্ষক সংকটে পাঠদান অনেকসময় ব্যহত হচ্ছে। কলেজের ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। যখন আমরা ভবনে অবস্থান করি তখন খুব ভয়ে ভয়ে থাকি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই কলেজে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে শিক্ষক স্বল্পতা। বর্তমানে সরাসরি পাঠদানের জন্য শিক্ষক ১৯ জন, প্রশাসনিক পদে ২ জন, অশিক্ষক কর্মকর্তা তিনজন,অফিস সহকারী তিনজন এবং পিয়ন রয়েছে আটজন। এনাম কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে কলেজের প্রতি বিভাগে চারজন করে শিক্ষক থাকার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী কলেজে উপাধ্যক্ষসহ ৬১ জন শিক্ষকের পদ সৃষ্টির কথা থাকলেও এখানে সৃষ্ট পদের সংখ্যা মাত্র ২১টি! কলেজে আরও নতুন ৪০টি পদের অভাব থাকলে অধ্যক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় সে অভাব পূরণে গেস্ট টিচারও নেওয়া হচ্ছে না বলেও গুঞ্জন আছে।
শিক্ষক সূত্রে জানা যায়,কলেজে রয়েছে মাত্র ৮টি শ্রেণিকক্ষ যার ফলে ছাত্রীদের নাম মাত্র কমন রুম ও কম্পিউটার ল্যাবে নিতে হচ্ছে বিভিন্ন পরিক্ষা ও ক্লাস। এছাড়াও শিক্ষক সংকট, বেঞ্চ সংকট, সুপেয় পানির সংকট, শিক্ষক পরিষদ রুমের অবস্থাও যাচ্ছেতাই। দরজা জানালা ভেঙ্গে পড়ার ফলে পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এ কলেজ। তবে কলেজের অধ্যক্ষ একেএম শফিকুর রহমান এসবের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছেন না বলেও জানা যায়।
সোনাইমুড়ী কলেজের অধ্যক্ষ একেএম শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা একবার আবেদন করেছি। ঢাকা শিক্ষা প্রকৌশলে যোগাযোগ করেছি"।
সোনাইমুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা হোসেন জানান,নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্যসহ কথা বলেছি আসা করে অতিসত্বর নতুন ভবনের বরাদ্দ আসবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/রাফিও/আরএএম