বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু


DhakaReport24.com || 2026-05-30
ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালটিতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৩টি শিশুর মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৮টি শিশু ভর্তি হয়েছে এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১৬ জন।

শনিবার (৩০ মে) সকালে হাসপাতালের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মমেক হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত শিশুদের মধ্যে একজন ৪ মাস বয়সী ছেলে শিশু। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পূর্ব ঝিনারই চৌদ্দশত গাবতলী বাজার এলাকায়। গত ২২ মে হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে শিশুটি মারা যায়।

অন্য শিশুটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া এলাকার ৩ মাস বয়সী এক ছেলে শিশু। গত ২৫ মে হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, হামের লক্ষণের পাশাপাশি শিশু দুটি তীব্র নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেইলিউরে (হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া) আক্রান্ত ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ৩৮টি শিশু হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭০৮টি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে এখানে ভর্তি হয়। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৫৪৯টি শিশু। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশুকে ছুটি দেওয়া হয়নি এবং নতুন করে কাউকে ঢাকায় স্থানান্তর করার প্রয়োজন পড়েনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এক-দুজন করে শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে মমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি হতে শুরু করে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করে। বর্তমানে তিনটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে সেখানে রোগীদের দিনরাত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আছিয়া খাতুন নামের এক মা চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত সাতদিনে আমার চোখের সামনে এই ওয়ার্ডে আটটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একজন মা হিসেবে আমি প্রতিনিয়ত কাঁপছি। আমার ছেলে দিদারুল আলমের অবস্থাও ভালো নয়। শিশুদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এত বড় একটি আঞ্চলিক হাসপাতালে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা নেই। আইসিইউ ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এতগুলো শিশুকে মরতে হতো না। সরকারের উচিত দ্রুত এখানে প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা।

মমেক হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যুতে মোট মৃতের সংখ্যা ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন রোগী ভর্তির হারও ঊর্ধ্বমুখী। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম