শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : বাগেরহাট

৪৬ কেজি হরিণের মাংস, চারটি চামড়া, বন্দুকের গুলি উদ্ধার


নাজমুল ইসলাম - শরণখোলা, বাগেরহাট
DhakaReport24.com || 2023-01-29 16:52:00
৪৬ কেজি হরিণের মাংস, চারটি চামড়া, বন্দুকের গুলি উদ্ধার

সুন্দরবনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হরিণ শিকারীরা। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে  শিকারীদের কবল থেকে ৪৬ কেজি হরিণের মাংশ, চারটি চামড়া, হরিণধরা ফাঁদ ও বন্দুকের গুলি উদ্ধার করেছে বন রক্ষীরা। এ ঘটনায়   আটক হয়েছে দশ হরিণ শিকারী। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের জন্য বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী, জ্ঞানপাড়া, শরণখোলার সোনাতলা, পানিরঘাট, মোংলার চাঁদপাই ও খুলনার কয়রা এলাকায় গড়ে উঠেছে  একটি শক্তিশালী শিকারীচক্র। চক্রের শিকারীরা জেলে বেশে  মাছের পাশ নিয়ে সুন্দরবনে গিয়ে বনের গহীনে নাইলনের দড়ি দিয়ে তৈরী ফাঁদ পেতে হরিণ ধরে জবাই করে মাংশ বস্তায় ভরে বরফচাপা দিয়ে রাতের আধারে বন থেকে ফিরে আসে। পরে  গোপনে বিভিন্ন স্থানে ৭/৮শ টাকা কেজি দরে বিক্রী করে।

 

ক্রেতারা শিকারীদের আগে থেকেই অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং দিয়ে রাখে। হরিণের এ মাংশ চক্রটি রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত সরবরাহ করে থাকে বলে সূত্রটি জানায়। অভিযোগ রয়েছে, হরিণ শিকারের বিষয়টি বনবিভাগের অনেক টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা জেনেও না জানার ভান করে  থাকেন। শিকারীরা শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর, কচিখালী, চান্দেশ্বর, কটকা, সুপতি, টিয়ারচর, কোকিলমনি, আন্ধারমানিক সহ দূর্গম বনাঞ্চলে বেশী ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে থাকে বলে ওই সূত্র জানায়। শিকারীদের নাম পরিচয় এলাকায়  অনেকটা ওপেন সিক্রেট । শরণখোলার পানিরঘাট সোনাতলা এলাকার শিকারী তানজের বয়াতী, শহিদুল,নান্না, জাকির মল্লিক, হাবিব হাং ও আলমের নাম মানুষের মুখে মুখে।


বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারী দুবলার আলোরকোলের জামতলা থেকে হরিণের মাংস ও ফাঁদসহ ৫ হরিণ শিকারীকে আটক করে বনরক্ষীরা। আটককৃতরা হচ্ছে, রাজিব, প্রদীপ, ইউনুস, নওশের ও ইদ্রিস আলী । এদের বাড়ী রামপালের শ্রীফলতলা গ্রামে বলে জানিয়েছেন আলোরকোল ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার সাদিক মাহমুদ। ২৫ জানুয়ারী সুন্দরবনের নীলকমল ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা একটি ট্রলার ২০ কেজি হরিণের মাংস ও ২০ রাউন্ড গুলিসহ হিরো আকন নামে এক শিকারীকে আটক করে।

 

আটক শিকারীর বাড়ী বরগুনার পাথরঘাটার তালতলী এলাকায়। ২৪ জানুয়ারী পাথরঘাটার হরিণঘাটা থেকে কোষ্টগার্ড ২টি হরিণের চামড়া উদ্ধার করে। ২৩ জানুয়ারী শরণখোলা ষ্টেশনের বনরক্ষীরা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের তানজের বয়াতীর বাড়ী থেকে দুইটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ২২ জানুয়ারী সন্ধ্যায় সুন্দরবনের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের বনরক্ষীরা ডিমেরচর থেকে ১৫/২০ কেজি হরিণের মাংস ট্রলারসহ দুই শিকারীকে আটক করে। আটক শিকারীরা  হচ্ছে পাথরঘাটার পদ্মা গ্রামের ইদ্রিস ও নিজাম। এর আগে ১৮ জানুয়ারী দুবলারচরের নারিকেলবাড়ীয়া থেকে বনরক্ষীরা ৫ কেজি হরিণের মাংসহ দুইজনকে আটক করে আাদালতে চালান দিয়েছে।


পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)  মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন  বলেন, হরিণ শিকার বন্ধে বনরক্ষীরা সার্বক্ষনিক টহল কার্যক্রম ও নজরদারী রাখছেন । নিয়মিত টহলের কারণেই হরিণ শিকারীরা আটক হচ্ছে বলে ডিএফও জানিয়েছেন।