বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> প্রতিমন্ত্রীর সামনেই ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ

>> যুবদল নেতার নেতৃত্বে ৬৭ টন মুরগির বিষ্ঠা লুট, গ্রেপ্তার ২

>> যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের ছেলেকে ফিলিস্তিনে গাড়িচাপা

>> জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

>> ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

>> জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

>> কক্সবাজারে সৈকত থেকে ৩ মরদেহ উদ্ধার

>> ফুডপান্ডার এমডিসহ ঊর্ধ্বতন ৫ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

>> বহুল আলোচিত গ্রিনল্যান্ড চুক্তিতে যা থাকছে

>> গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

আপনি পড়ছেন : চুয়াডাঙ্গা

জীবননগরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যা, স্বামী গ্রেফতার


সালাউদ্দীন কাজল, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2026-06-04
জীবননগরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

জীবননগরে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে স্বামীর বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী শিখা খাতুন বুধবার দিনগত রাত ১০ টার সময় অভিযুক্ত স্বামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি ভ্রূণ হত্যার মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিপ্লবকে গ্রেফতার করেছেন। ভ্রূণ হত্যার এ ঘটনাটি ঘটেছে জীবননগর উপজেলার কয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়। 

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবননগর উপজেলার কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিপ্লবের (২৪) সাথে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিলো। এসব দাবি পূরণ না করায় শিখা খাতুনের ওপর তার স্বামী প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিখা খাতুন অভিযোগ করে বললেন, আমি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ অবস্থায় ২৬ মে রাতে স্বামী সাইফুল ইসলাম যৌতুকের দাবীতে আমার উপর ব্যাপক শারিরীক নির্যাতন চালায় এবং পেটে লাথি মারে। পরবর্তীতে ৩১ মে দিনগত রাত প্রায় ১০টার দিকে বিপ্লব বাজার থেকে বাড়ি ফিরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে। এ সময় আমি জানায়, আমার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ এবং এত টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র আমার পরিবারের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব আমাকে বেধড়ক মারধর করে এবং খুব জোরে পেটে আবারও লাথি মারে। এতে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে জীবননগরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে ১ জুন বিকেলে আমি জীবননগর মনোয়ারা সনো সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করায়। আল্ট্রাসনোগ্রামের সময় চিকিৎসক আমাকে জানায়, আমার গর্ভের সন্তানের কোনো হার্টবিট তারা পাননি। এ সময় চিকিৎসক আমাকে ১ ঘন্টা ধরে অক্সিজেন দেন। এরপর আবারও আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। তখনও আমার গর্ভের সন্তানের কোনো হার্টবিট পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বুধবার সকাল ১১ টার দিকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে আমি একটি মৃত সন্তান প্রসব করি। 

ভুক্তভোগী শিখা খাতুন আরও বলেন, আমার স্বামী আমার বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেশুনেই আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেলের জন্য চাপ দিতে থাকে। দাবি পূরণ করতে না পারায় আমাকে প্রায়ই মারধর করে। ঘটনার দিন পেটে লাথি মারার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি আমার সাত মাসের সন্তান আর বেঁচে নেই।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ বলেন, এ ঘটনায় শিখা খাতুন বাদী হয়ে তার স্বামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে থানায় একটি ভ্রূণ হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর বিপ্লবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। যৌতুকের দাবিতে এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম