জীবননগরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগার ব্যাপারে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন উভয় পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০ টার সময় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের রুহুল কুদ্দুস মোল্লা।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কুদ্দুস মোল্লার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে মো. আবু হুরায়রা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৬ মার্চ জীবননগর থ্রি-স্টার হোটেলে জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের কামার পাড়ার মো. বাবর আলী সংবাদ সম্মেলন করেন। যাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, রায়পুর গ্রামের রুহুল কুদ্দুস মোল্লার ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও আবু হুরায়রার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা রয়েছে।
সর্বশেষ সাদ্দাম হোসেন তার নার্সারির নারী কর্মী রেখা খাতুনের সাথে আপত্তিকর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হলে এবং সেই মামলা হতে কোনভাবে শেষ রক্ষা না হওয়ায় তারা উক্ত রেখা খাতুনসহ এলাকার বেশ কিছু মানুষের বিরুদ্ধে থানা ও কোর্টে ৭ টি মিথ্যা মামলা দেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ চিন্তা করে মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তিদেরকে রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফি নানাভাবে হয়রানি করে। অন্যদিকে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা আপত্তিকর অভিযোগ থাকলেও বিএনপি নেতা রফি মিয়া কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে ক্যাডার হিসাবে ব্যবহার করে আসছেন।
আগুনের ঘটনার পর রুহুল কুদ্দুস মোল্লা পুলিশ এবং স্থানীয় বহু মানুষের নিকট আগুনের সূত্রপাতের কথা না জানলেও এবং জীবননগর ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রকাশ করলেও রুহুল কুদ্দুস মোল্লা পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ দমনের নামে এবং তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের মামলার বাদী পক্ষের লোক মনে করে আগুনের ঘটনা রেখা খাতুন, বাবর আলী, আব্দুল আলিম, শরিফ, কবির হোসেনরা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে।
আমাদের বিশ্বাস বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম রফির মাধ্যমে জীবননগর থানার ওসিকে প্রভাবিত করে আগুনের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা বানোয়াট মামলা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা হতে রক্ষা পাওয়ার হীন মানসিকতায় আগুনের ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে ঘটনা এরূপ যে, আমরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকার কিছু কুচক্রী মহল আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন মানসে আমার মোল্লা নার্সারীতে কর্মরত নারী শ্রমিককে প্রলোভন দিয়ে আমার ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেনের নামে বিজ্ঞ আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় বাদী পক্ষ কোন সাক্ষী যোগাড় করতে না পারায় কৃষ্ণপুর গ্রামের বাবর আলী, আব্দুল আলিম, রায়পুর গ্রামের কামার পাড়ার শরিফ, মো. কবির হোসেন গংদের সহিত যোগসাজস করে আমার ছেলের নিকট থেকে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য ৩০ লক্ষ টাকা দাবী করে। যা আমরা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৬ মার্চ সকাল অনুমান সাড়ে ৯ টার সময় আমার বসত বাড়ীর পশ্চিম দিকে নার্সারীর জন্য ব্যবহৃত গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে আমার গোডাউনে থাকা প্রায় ৭৪ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়। জীবননগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিলেও ততক্ষণে আমার গোডাউনে থাকা সকল মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়। ঘটনার বিষয়ে আমি বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করি।
উক্ত মামলা থেকে রেহায় পেতে বিবাদীরা বৃহস্পতিবার বিকেলে মিথ্যা, ভিত্তিহীন তথ্য পরিবেশন করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে।যার আদৌও কোন ভিত্তি নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিবাদী বাবর আলী এলাকার একজন চাঁদাবাজ। তিনি এলাকার আব্দুল আলিম, শরিফ, মো. কবির হোসেন গংদের নিয়ে একটি বাহিনী তৈরি করে সরকারী বিল বাওড় দখলকারী ও নারী লোভী ব্যক্তি। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের নিকট থেকে চাঁদাবাজী করাসহ এলাকার বিভিন্ন লোকজনকে মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায় করে আসছে। তার বিষয়ে এলাকার লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। অপরদিকে প্রতিপক্ষ বাবর আলী বৃহস্পতিবার বিকেলে জীবননগর থ্রি-স্টার হোটেলে রুহুল কুদ্দুস মোল্লা এবং তার ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও আবু হুরায়রার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম