বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : চুয়াডাঙ্গা

জমি বিরোধে চার বিঘা মসুর কাটার অভিযোগ, কৃষক নিখোঁজ


সালাউদ্দীন কাজল, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2026-03-12
জমি বিরোধে চার বিঘা মসুর কাটার অভিযোগ, কৃষক নিখোঁজ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের চার বিঘা জমির মসুর জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে আলমগীর হোসেন (৩৮) নামে এক কৃষক নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। 

অভিযুক্তরা হলেন- একই গ্রামের মৃত মোস্তফা বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ রইস উদ্দিন (৪৩), মোহাম্মদ ইন্তাজুল হক (৩৮) ও তাদের ভাই ওমেদুলসহ কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, হরিহরনগর গ্রামের সামাদ আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে হরিহরনগর মাঠের প্রায় চার বিঘা জমি চাষাবাদ করে আসছিলেন। জমিটি নিয়ে একই গ্রামের ওমেদুল ও তার ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে এবং এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। আলমগীরের পরিবারের দাবি, আদালতের রায়ে জমিটির ভোগদখল তাদের নিজের পক্ষে যায়। কিন্তু প্রতিপক্ষ ওই রায় অস্বীকার করে জমিটি নিজেদের দাবি করে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ওই জমিতে উৎপাদিত প্রায় চার বিঘা মসুর জোরপূর্বক কেটে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

এ ঘটনায় আলমগীর জীবননগর থানায় অভিযোগ করলে থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) আতিয়ার রহমান অভিযুক্তদের মসুর ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ মার্চ আলমগীর, মোমিন ও তৌহিদ অভিযুক্তদের বাড়িতে মসুর আনতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মোমিন ও তৌহিদকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং আলমগীরকে মারধর করে মাঠের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ আলমগীরের স্ত্রী বলেন, আমরা গরিব মানুষ। চাষাবাদ করেই সংসার চলে। আমাদের চার বিঘা জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে। কষ্ট করে ফলানো মসুর কেটে নিয়ে গেছে। পরে থানার নির্দেশে আনতে গেলে আমার স্বামীসহ অন্যদের মারধর করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকে আমার স্বামীর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।

আলমগীরের চাচাতো ভাই ফারুক বলেন, আলমগীর জন্মের পর থেকেই ওই জমি চাষ করে আসছে। আদালতের রায়ও আছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ জোর করে জমি দখলের চেষ্টা করছে।

আরেক চাচাতো ভাই আরিফ জানান, আমরা মসুরের বিষয়ে কথা বলতে গেলে ওমেদুলসহ ২০–২৫ জন আমাদের ওপর হামলা করে। আমি ও আলমগীর দৌড়ে পালাই। পরে মোমিন ও তৌফিককে ধরে মারধর করা হয়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু ওই দিন থেকেই আলমগীর নিখোঁজ। পরে ভুট্টার ক্ষেতে তার জুতা ও মোবাইল পাওয়া যায়।

আহত মোমিন ও তৌফিক বলেন, আলমগীর খুবই গরিব। তার মসুর কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রইস উদ্দিন বলেন, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে এবং আমাদের পক্ষেই রায় হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে জমি চাষ করছি। আলমগীররা বাইরে থেকে লোক এনে জমি দখল করে নেয়। সেখানে চার বিঘা মসুর ছিল না, দেড় বিঘা মসুর এবং বাকি জমিতে সরিষা ছিল। তারা আমাদের সরিষা কেটে নেওয়ায় আমরা মসুর কেটে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, মোমিন ও তৌফিক আমাদের বাড়িতে এসে জোর করে পাওয়ার টিলার দিয়ে মসুর তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তখন এলাকাবাসী তাদের ধরে মারধর করে। আলমগীর নিখোঁজের ঘটনায় আমাদের জড়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন, আলমগীর হোসেন নামে একজন ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমি দখল ও ফসল কেটে নেওয়া নিয়ে উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম