বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> প্রতিমন্ত্রীর সামনেই ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ

>> যুবদল নেতার নেতৃত্বে ৬৭ টন মুরগির বিষ্ঠা লুট, গ্রেপ্তার ২

>> যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের ছেলেকে ফিলিস্তিনে গাড়িচাপা

>> জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

>> ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

>> জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

>> কক্সবাজারে সৈকত থেকে ৩ মরদেহ উদ্ধার

>> ফুডপান্ডার এমডিসহ ঊর্ধ্বতন ৫ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

>> বহুল আলোচিত গ্রিনল্যান্ড চুক্তিতে যা থাকছে

>> গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

আপনি পড়ছেন : চুয়াডাঙ্গা

দর্শনা চিনিকলে এবার মুনাফা অর্জনে স্মরণকালের রেকর্ড


সালাউদ্দীন কাজল, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2025-09-26
দর্শনা চিনিকলে এবার মুনাফা অর্জনে স্মরণকালের রেকর্ড

দেশের সবগুলো চিনিকলে যখন লোকসান হচ্ছে তখন সরকারকে প্রচুর রাজস্ব দিয়েও মুনাফা অর্জন করছে দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানি। কেরু চিনিকল প্রতিষ্ঠাকালের সকল রেকর্ড ভেঙে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মুনাফা অর্জন হয়েছে সর্বোচ্চ।

সরকারের রাজস্ব খাতে ১৪০ কোটি ও চিনি কারখানার প্রায় সাড়ে ৬২ কোটি টাকা লোকসান পুষিয়েও মুনাফা অর্জন হয়েছে ১শ' সাড়ে ২৯ কোটি টাকা। যা চিনিকল প্রতিষ্ঠার ৮৮ বছরের সকল রেকর্ড ভেঙেছে। কেরু চিনিকলটি আরও লাভজনক করতে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে আখ চাষ করায় আগামী মাড়াই মৌসুমে চিনি কারখানায় লোকসানের বোঝা অনেকাংশে কমতে পারে।

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু চিনিকলের বয়স ৮৮ বছর পেরিয়েছে। জোড়াতালি দিয়েই বারবার আখ মাড়াই মৌসুমের কার্যক্রম চালু করা হয়ে থাকে। খানেকটা খুড়িয়ে খুড়িয়ে কোনোভাবে শেষ করা হয় আখ মাড়াই কার্যক্রম। লাগাতার যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে নাজেহালে হতে হয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। তবে ভিন্নতায় ডিস্টিলারী কারখানা। ডিস্টিলারী বিভাগে ফরেণ লিকার উৎপাদনে অটোমেশিন স্থাপন করা হয়েছে গত বছরে। পূর্ণতা পাবে দেশীয় মদ বোতলজাত করণে আধুনিক মেশিন স্থাপন করা হলে। এ ছাড়া মিলের প্রতিটি বিভাগেই উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। চিনি কারখানা বিএমআরই করণ প্রায় শেষের দিকে। তাছাড়া সম্প্রতিকালে কয়েকটি বিভাগে উন্নয়নের কাজও হয়েছে। চিনি কারখানা আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে লোকসান কিছুটা হলেও কমতে পারে। পাশপাশি কৃষকরা আখ চাষ বাড়ালে হয়তো লোকসানের রেকর্ড ভেঙে লাভের মুখও দেখতে পারে চিনি কারখানায়। সে দিকে নজর দিয়েই মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর থেকেই অবিরাম ছুটছেন কৃষকদের কাছে। আখচাষিদের সাথে সভা-সমাবেশ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যহত রেখেছেন। এ দিকে বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের কথা বিবেচনা করেই বারবার আখের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। গত আখ মাড়াই মৌসুমে ৫ হাজার ১শ' একর জমিতে আখচাষ ছিলো। যার মধ্যে কৃষকের জমির পরিমান ৩ হাজার ৪৫৫ ও কেরুর নিজস্ব জমিতে ছিলো ১ হাজার ৬৪৫ একর আখ। ৬৫ মাড়াই দিবসে ৭০ হাজার মেট্রিকটন আখ মাড়াইয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারিত ছিলো। আখ মাড়াইয়ের গড় হার ছিলো ১ হাজার ১৫০ মেট্রিকটন। চিনি আহরণের গড় হার নির্ধারণ করা ছিলো ৬ দশমিক শূন্য শতাংশ।


চিনি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ৪ হাজার ২শ' মেট্রিকটন। চিনি কারখানা বড় ধরণের তেমন কোন যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পরতে হয়নি। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ৫২ মাড়াই দিবসে আখ মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। সে সময় পর্যন্ত কেরুজ নিজস্বসহ কৃষকদের প্রায় ১ হাজার ৪শ' একর জমিতে আখ ছিলো। ওই আখ ২৫ ফেব্রুয়ারিতে বিএমআরই (আধুনিকায়ন) চিনি কারখানায় মাড়াইয়ের মাধ্যমে উদ্বোধন করার প্রস্তুতি মূলক রাখা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি আধুনিকায়নকৃত কারখানার পাউয়ার টার্বাইন সমস্যা জনিত কারণে তা সম্ভব হয়নি। চিনিকল কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যনুযায়ি গত মৌসুমে আখ মাড়াই করা হয়েছিলো প্রায় ৭২ হাজার মেট্রিকটন। চিনি উৎপাদন হয় ৩ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন। উৎপাদিত চিনির মধ্যে বিক্রি হয় ২ হাজার ৩৮২ দশমিক ৭৫ মেট্রিকটন। ফলে চিনি কারখানায় ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কর্তৃপক্ষের লোকশান হয়েছে ৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ দিকে ওই অর্থ বছরে কেরু ডিস্টিলারী বিভাগে ফরেণ লিকার উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২২০ কেচ। উৎপাদিত ফরেণ লিকারের মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৬৯৮ কেচ। সিএস (দেশীয় মদ) উৎপাদন হয়েছে ২৪ লাখ ৮৯ হাজার প্রুফ লিটার। বিক্রি হয়েছে ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬০ প্রুফ লিটার। ভিনেগার উৎপাদিত হয়েছে ২১ হাজার লিটার। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ফরেণ লিকার ও দেশীয় মদ উৎপাদন বিক্রির পরিমান অনেক গুনে বেশী হলেও গত অর্থ বছরে মুনাফা অর্জনের পরিমান বেশী। নেপথ্যে রয়েছে গত অর্থ বছরের শুরুর দিকেই ফরেণ লিকার ও দেশীয় মদের মূল্য বৃদ্ধি। এ ছাড়া দেশীয় মদ বোতলজাত করণের কারণেও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কেরু চিনিকলের ৬টি বিভাগের মধ্যে ৫টিতেই মুনাফা অর্জন হয়েছে। চিনি কারখানায় ৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লোকসান হলেও ডিস্টিলারী বিভাগে মুনাফা অর্জন হয়েছে ১৯০ কোটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। বানিজ্যিক খামারগুলো থেকে মুনাফা অর্জন হয়েছে ৩৬ লাখ ৯ হাজার টাকা।আকুন্দবাড়িয়া পরিক্ষা মূলক খামার থেকে মুনাফা অর্জন হয়েছে ৩৩ লাখ ২ হাজার টাকা। ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা মুনাফা অর্জন হয়েছে আকুন্দবাড়িয়া জৈব সার কারখানায়। এ ছাড়া ফার্মাসিটিক্যাল বিভাগে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মুনাফা অর্জন হয়েছে। চিনি কারখানার লোকসান পুষিয়েও সরকারের রাজস্ব খাতের মধ্যে মাদক শুল্ক ৮১ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭০৭ টাকা, ট্যাক্স ৩২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ও ভ্যাট জমা দিতে হয়েছে ২৫ কোটি ৬৩ লাখ ২১ হাজার ৯৪৮ টাকা। চিনি কারখানায় লোকশান পুষিয়ে, সরকারের বিভিন্ন খাতে ১শ' সাড়ে ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা দিয়েও মুনাফা অর্জন হয়েছে ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, এ সফলতা এলাকার আখচাষি, ডিলার, শ্রমিক-কর্মচারি, কর্মকর্তা ও শুভানুধ্যায়িদের। এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি কেরু চিনিকল। সর্বক্ষেত্রে কেরুজ চিনিকলের রয়েছে অবদান। বাংলাদেশ সরকারের এ মূল্যবান সম্পদ গর্বিত ও সমৃদ্ধ করেছে এ জেলা তথা দর্শনাকে। এলাকার বৃহত্তর স্বার্থে এ প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার জন্য অন্যতম কাচামাল আখচাষ বাড়ানো খুবই জরুরী। কেরু চিনিকলে যে যেখানে যে যে দায়িত্বে রয়েছেন, তাদেরকে নিষ্টা, আন্তরিকতার মধ্যদিয়ে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। তাহলেই রক্ষা পাবে চিনি কারখানা। এ অঞ্চল ফিরে পাবে সোনালী অতীত। তাই আসুন কেরু চিনিকলকে বাচাই নিজেদের স্বার্থে বেশী বেশী আখ চাষ করি।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম