চুয়াডাঙ্গা জেলার অধিকাংশ ঘরে ঘরে ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। পাচ থেকে সাত দিন জ্বর-সর্দি-কাশির তীব্রতা থাকছে। ভাইরাস জনিত জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুর সংখ্যায় বেশি। জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চাপ বেড়েছে সদর হাসপাতালেও। দুই মেডিসিন ওয়ার্ডে জায়গার নেই বল্লেই চলে। মেঝেতেও ঠাঁই মিলছে না রোগীর। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, শুধু জ্বরই নয়, জ্বরের সাথে কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগীরাও আসছেন প্রতিনিয়ত। এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগেই রয়েছে প্রায় ৫ শ' থেকে সাড়ে ৫ শ' রোগী জ্বর-কাশি, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বিভিন্ন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ভাইরাসজনিত জ্বর ও ঠান্ডা কাশি। বৃষ্টির কারণে কিছুটা ঠান্ডা আবার বাইরে গরম; তাই এই সময় সাবধান থাকতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, ৮ জুলাই থেকে ১০ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুটি ওয়ার্ডে মোট ভর্তি হয়েছেন ৫৪৫ জন রোগী। এর মধ্যে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ৪৬টি এবং কেবিন ৩টি। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা ৬৫টি এবং কেবিন ২টি। এর বিপরীতে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৬০ জন এবং মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৮৫ জন ভর্তি হয়েছেন গত তিন দিনে। যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুন রোগী ভর্তি আছেন ওই দুই ওয়ার্ডে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ জ্বরে ও ঠান্ডা জনিত আক্রান্ত রোগী।
আজ বুধবার দুপুরে দুই ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, মেঝেতে বিছানা পেতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। সামান্য পরিমান জায়গা নেই। ৮০ শতাংশ রোগী জ্বরে আক্রান্ত। এর মধ্যে বয়স্ক ও শিশুর সংখ্যায় বেশি। এছাড়া, জ্বরের সাথে কাশি, শ্বাসকষ্ট, হার্টসহ বিভিন্নজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শিউলি বেগম নামের এক নারী বলেন, তিন দিন যাবত জ্বরে আক্রান্ত আমার মাকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। ওয়ার্ডে রোগীদের প্রচণ্ড চাপ। কোন জায়গা নেই।
পারভিন আক্তার নামে অপর এক নারী বলেন, চারদিন আগে আমার শাশুড়ি ঠাণ্ড-জ্বর-শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাতেই হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার ভর্তি করিয়ে দেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর চাপ। ধারণ ক্ষমতার থেকে প্রায় দ্বিগুন রোগী আছে বর্তমানে। বেশির ভাগ রোগীই ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম