চুয়াডাঙ্গায় কবিরাজ রাজ্জাক শেখ ওরফে রাজাই হত্যা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। চিকিৎসার নামে রাতে মাঠের একটি পানবরজে নিয়ে স্ত্রীকে সম্ভ্রমহানি করার অপরাধে কবিরাজ রাজাইকে জবাই করে হত্যা করে গৃহবধুর স্বামী রুবেল মিয়া (২৩) ও তার সহযোগী সোহেল আলী (২১)। এ ঘটনায় ব্যবহৃত ধারালো চাকু, মোটরসাইকেল ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের আব্দুর সেলিমের ছেলে রুবেল মিয়া ও একই এলাকার আনিসের ছেলে সোহেল রানা।
মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান জানান, ভিকটিম আব্দুর রাজ্জাক কবিরাজি করে মানুষের বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা প্রদান করতেন। আসামি রুবেল মিয়া ও তার স্ত্রী শারীরিক চিকিৎসার জন্য ভিকটিম আব্দুর রাজ্জাকের স্মরণাপন্ন হন।
গত ৩১ মে সন্ধ্যায় আব্দুর রাজ্জাক জ্বিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে আসামি রুবেল ও তার স্ত্রীকে সদর থানার হোগলডাঙ্গা গ্রামের নবগঙ্গা ব্রিজ এলাকায় পানবরজের কাছে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং আসামিকে সিগারেট আনতে দোকানে পাঠায়। কিছুক্ষণ পরে আসামি রুবেল পানবরজে ফিরে এসে কবিরাজ রাজ্জাক ও তার স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে স্ত্রীর মোবাইলে কল দিয়ে বন্ধ পান।
খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে আনুমানিক ৩৫-৪০ মিনিট পরে ভিকটিম ও তার (রুবেলের) স্ত্রী পানবরজের কাছে ফিরে আসে। এসময় তার স্ত্রীকে দেখে খারাপ কোনো কাজ করেছে বলে সন্দেহ পোষন করে রুবেল। পরবর্তীতে রুবেল বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার স্ত্রী কান্নাকাটির এক পর্যায়ে স্বীকার করে কবিরাজ আব্দুর রাজ্জাক চিকিৎসা দেওয়ার নামে তাকে সম্ভ্রমহানি করেছে।
ওই রাতেই আসামি রুবেল তার সহযোগী সোহেল রানাকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলে কবিরাজ রাজ্জাককে বাড়ি থেকে ডেকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয় এবং পরবর্তীতে ধারালো ছুরি দ্বারা রাজ্জাককে গলায় পোচ দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে এ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দু'জনকে ৫ জুন রাত ১২ টার দিকে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, গত ১ জুন সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নতুন ভান্ডারদহ-জুগিরহুদা রাস্তার পাশে মাঠ থেকে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজাই (৫০) নামে এক কবিরাজের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম