দশ বছরের ব্যবধানে সব রেকর্ড ভেঙে চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রিতে পৌছিয়েছে। সোমবার বিকেল ৩ টার সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। চলতি মৌসুমে এটিই চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে ২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগে ২০০৫ সালে ২ জুন চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ২০১২ সালে ৪ জুন চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৪২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে টানা ১৮ দিন ধরে অব্যহত রয়েছে তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপমাত্রা। সোমবার বিকেল ৩ টার সময় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৪৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১৩ শতাংশ।
বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশী থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে বলে জানান চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান।
চলমান দাবদাহে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিন মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। হিটস্ট্রেোকের ঝুঁকি নিয়ে প্রচন্ড রোদে জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের ভ্যান চালক আবুল কাশেম বলেন, কাজ না করলে পেটে ভাত জুটবে না। আমাদের মত মানুষদের ঝুঁকি নিয়েই শীত-গরমে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, রোদ-গরমে কোথাও কোনো লোকজন না থাকাায় যাত্রী পাচ্ছি না। প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয়ে ঠিকমতো ভাড়া মারতে পারছি না।
আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের রিক্সা চাকল মিনারুল হক বলেন, বাড়ির সদস্যদের খাবার জোগাড় করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই গরমের মধ্যে রিক্সা নিয়ে বের হয়েছি।
জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে অটোরিক্সা চালক মমিন বলেন, প্রচন্ড গরমে মানুষ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। এজন্য আমাদের ভাড়া হচ্ছে না।
চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়ে আসছে চুয়াডাঙ্গায়। টানা ১৮ দিন তীব্র থেকে অতি তীব্র দাবদাহে হাসপাতালগুলোতে বেড়েই চলেছে জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান জানান, সোমবার বিকেল ৩ টার সময় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, প্রায় ১৮ দিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪৩ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। সোমবার বিকেল ৩ টার সময় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৪৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১৩ শতাংশ। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশী থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। জেলায় হিট এলার্ট জারী আছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম