চুয়াডাঙ্গা জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায়। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৯ শতাংশ।বর্তমানে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো জানান, মাঝে একদিন বাদে চুয়াডাঙ্গায় ৫ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আওতায় রয়েছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা কোনভাবেই কমার সম্ভাবনা নেই।
চুয়াডাঙ্গা ক্রমাগত তীব্র ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে সবজি ক্ষেত পানি দিয়েও রক্ষা করতে পারছেন না কৃষকরা। তাপপ্রবাহে ক্ষেতের ফসল পুড়লেও সে সব তথ্য নেই কৃষি বিভাগের কাছে। জেলার ৪টি উপজেলায় সবজির ক্ষতির পরিমাণ জানাতে ব্যর্থ হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ডিঙ্গেদহের হাটখোলা গ্রামের কৃষক স্বপন বলেন, ১৫ কাঠা জমিতে করলার আবাদ করেছি। ২-৩ দিন পর পর পানি দিয়েও তা রক্ষা করতে পারছি না। গাছ থেকে ঝরে পড়ছে অপরিপক্ব করলা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের হারিস মিয়া বলেন, এই দাবদাহে বেশি ক্ষতি হচ্ছে কচু, পান, তরমুজ ও কাঁচা মরিচের। ঘনঘন সেচ দিয়েও কোনোভাবেই শুকিয়ে যাওয়া থেকে ঠেকানো যাচ্ছে না ক্ষেত। তাছাড়া সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদিত পণ্য বিক্রি নিয়ে আমি শঙ্কিত। কারণ অধিক দামে এগুলো বিক্রি করতে হবে।
একই কথা বলেন হানুরবাড়াদী গ্রামের কৃষক দোয়াল্লিন। তিনি বলেন, তার ফলন্ত কলা গাছের কাঁদি পড়ে যাচ্ছে। তরমুজের ফল ঝরে যাচ্ছে। বেগুন গাছে বেগুন ধরছেনা। কচু গাছ রোদে পুড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। শসা ক্ষেত তাপপ্রবাহে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। দেরীতে লাগানো ভুট্টা ক্ষেতেরও একই দশা। তিনি আরো বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ক্ষেতে ক্রমাগত সেচ দিচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গার হানুড়বাড়াদী গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, তিনি তার ৬ বিঘা জমিতে বিনা-২৫ জাতের ধানের আবাদ করেছেন। ধান ভাল হয়েছে। প্রচন্ড রোদের কারণে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে স্যালোমেশিন দিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন।
চলমান তাপপ্রবাহে ফসল রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, অতি তাপপ্রবাহের কারণে কি কি ফসলের ক্ষতি হচ্ছে তা এখনো নিদিষ্ট করতে পারিনি। উপজেলা পর্যায়ে কাজ চলছে। দুই-তিন দিনের মধ্যেই আমরা ফসলের ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারবো।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমআর/আরএএম