বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা দিন দিন পানির স্তর নিচে নামছে


সালাউদ্দীন কাজল, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2024-04-23 16:01:30
চুয়াডাঙ্গা দিন দিন পানির স্তর নিচে নামছে

চুয়াডাঙ্গায় টানা ১০ দিনের তীব্র ও অ‌তি তীব্র দাবদাহে বেশিরভাগ গ্রামগুলোতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ ও খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রচন্ড গরমে নাভিশ্বাস উঠছে জেলার মানুষের। তার উপর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।

সরেজমিন বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে পা‌নির স্তর ১৫-২০ ফুট নিচে নেমে গেছে। ফলে নলকূপ ও পাম্প থেকে পানি উঠছে না। তবে, গ্রামবাসীরা পানির চাহিদা মিটাতে গভীর নলকূপ বসানোর চিন্তাভাবনা করছেন। পানির চাহিদা পূরণ করতে অনেকই ১২-১৫ ফুট গর্ত খুঁড়ে সিমেন্টের ও মাটির রিং বসিয়ে পাম্প নিচে নামিয়ে পানি তোলার ব্যবস্থা করছেন। 

দামুড়হুদা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলায় সরকারিভাবে পাঁচ হাজার এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ৪০ হাজার নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি নলকূপে পানি উঠছে না। বাকিগুলোতে যে পরিমাণে পানি উঠছে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। দামুড়হুদা উপজেলা সদর, মদনা, দর্শনা, কুড়োলগাছি, সদাবরী, নতিপোতা, হাউলি, কার্পাসডাঙ্গা, কুতুবপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় কয়েক হাজার নলকূপে একেবারেই পানি উঠছে না। বাকি নলকূপগুলোতে সামান্য পানি উঠছে। এ অবস্থায় অনেক পরিবার রান্না গোসলসহ অন্যান্য প্রয়োজনে পরিমাণ মতো পানি পাচ্ছেন না। 

দামুড়হুদা উপজেলা সদরের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশ কিছু জায়গায় তীব্র দাবদাহের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। টিউবওয়েলের পানি খুবই কম উঠছে। মাঠের সেচ পাম্পগুলোর একই অবস্থা। 

দামুড়হুদার উপজেলার কুড়োলগাছি ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল বলেন, অতি তীব্র দাবদাহে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আমার ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই টিউবওয়েলে পানি ওঠা একেবারেই কমে গেছে। কিছু টিউবওয়েলে পানি একেবারেই উঠছে না।

দামুড়হুদা মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের এই এলাকার মাঠের শেচ পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। প্রয়োজনের তুলনায় পানি উঠছে না। এতে শেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া গ্রামের বেশিরভাগ টিউবয়েলগুলোতে একেবারেই পানি উঠছে না। কিছু টিউবওয়েল পানি উঠলেও তা খুবই কম। 

দামুড়হুদা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, পানির স্তর প্রতি বছরে নিচে নামছে। ৭-৮ বছর আগেও এই অঞ্চলে ৫০-৬০ ফুটের মধ্যে ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর ছিল। এখন বর্ষা মৌসুমেও ১২০-১৩০ ফুটের মধ্যে পানির স্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

এ পরিস্থিতির কারণ হিসেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যত্রতত্র পুকুর-খাল-বিল ভরাট করে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার ও অপরিকল্পিতভাবে স্যালোমেশিন দিয়ে পানি তোলার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সামনে বৃষ্টিপাতের পরিমান বেশি না হলে পরিস্থিতি খারপ হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমআর/আরএএম