প্রথম পর্যায়ে এলাকার মানুষ পাগল বললেও কমলা চাষে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আলমডাঙ্গার কাটাভাঙ্গা গ্রামের মেছের আলী ও তার চাচা আইয়ুব আলী। প্রথমে লিচু গাছের বাগান ছিল, কিন্তু স্বপ্ন ছিল আলমডাঙ্গার মাটিতে কিছু একটা করে তাক লাগিয়ে দেবেন সকলকে। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ভয়কে জয় করে ঝাঁপিয়ে পড়েন কমলা চাষে।
চুয়াডাঙ্গার নীধিকুন্ডু থেকে ১৮০ পিচ কমলা গাছ নিয়ে প্রথম পর্যায়ে ২ বিঘা জমিতে কমলা বাগান শুরু করে। গাছ রোপনের শুরুতেই গ্রামের অনেক মানুষ তাদেরকে ভিবিন্নভাবে কটুক্তি করেছে। কমলা হলুদবর্নের হবে না বলে ভয় দেখিয়েছে, কেউ বা আবার পাগলও বলেছে, কিন্তু সেখানেই দমে যাননি চাচা-ভাতিজা। দিন বদলের সময়ে, নিজেকেও সময়ের সাথে বদলে ফেলেছেন। এখন তার বাগানে গাছে - গাছে ঝুলছে হলুদ বর্ণের কমলা।
এভাবেই সাড়া ফেলেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বারাদী ইউনিয়নের কাটাভাঙ্গা গ্রামের মেছের আলী ও তার চাচা আইয়ুব আলী। এখন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কমলা দেখার জন্য প্রতিদিনই অনেক মানুষ ভিড় জমাচ্ছে তাদের কমলা বাগানে। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এমনই সাড়া ফেলানো কমলা বাগানের কোন তথ্য উপজেলা কৃষি অফিসের কাছে ছিল না।
এ বিষয়ে কমলা চাষী মেছের আলি বলেন, তিন বছর আগে ইউটিউব দেখে নিধিকুন্ডু থেকে ১৮০টি কমলা চারা নিয়ে এসে রোপন করি। গাছের বয়স তিন বছর হওয়ার পর ফল ধরার কথা ছিল। কিন্তু দুই বছরেই বাগানের অধিকাংশ গাছে ফল এসেছে এবং এবার সকল গাছে অধিক পরিমাণ কমলা ধরেছে। রং, স্বাদ—দুটোই ভালো, ফলনও অনেক বেশী। আলহামদুলিল্লাহ এখন আমার কাছে খুব ভালো লাগছে।
কিন্তু সব থেকে খারাপ লেগেছে আমার, কৃষি প্রধান দেশে তিন বছরের মধ্যে কোন মাঠকর্মীর পা আমার বাগানে পড়েনি। একজন কৃষক অনেক কিছুর সাথে চ্যালেঞ্জ করে চাষ করতে হয়। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া গরমের সময় বেশি গরম এবং শীতের সময় শীতও বেশি পড়ে। আর কৃষকরা অধিকাংশই লেখা পড়া জানে না। এ ক্ষেত্রে যদি মাঠ কর্মীরা কৃষকদের সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দেয় তাহলে কৃষকদের অনেকদূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
এখন বিষমুক্ত ফল বাজারজাত করতে পেরে নিজের কাছেও ভালো লাগছে। এখন অনেকেই আমার দেখা দেখি কমলা চাষে আগ্রহ পোষণ করছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম