বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় এসিআই ও লালতীর কুমড়ার বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্থ চাষিরা


সালাউদ্দীন কাজল
DhakaReport24.com || 2023-09-03 17:09:15
চুয়াডাঙ্গায় এসিআই ও লালতীর কুমড়ার বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্থ চাষিরা

মিষ্টিকুমড়ার বীজ কিনে জমিতে বপন করার পর কোনো ফলন না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার চাষিরা। সরকার অনুমোদিত এসিআই ও লালতীর কোম্পানির কুমড়ার বীজ কিনেছিলেন তারা। কিন্তু সেই বীজ কোনো ফলই দেয়নি। ক্ষতিগ্রস্থচাষিরা বীজের ব্যাপারে কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। 

পরে তারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিভিন্ন সরকারি দফতরে। বীজ থেকে ফলন না পাওয়ার বিষয়টি শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তাদের  জানিয়েছিলেন তারা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হলেন দরিদ্র কৃষকেরা । যখন গুরুত্ব দিয়েছেন, তখন আর কিছু করার ছিল না বলেও অভিযোগ করেন চাষিরা।

আখ চাষ হয় না এমন পড়ে থাকা জমি বিঘা প্রতি ১০ হাজার ৫০০ টাকা দরে ছয় মাসের জন্য ইজারা দেয় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। কয়েকজন চাষী জমিগুলো ইজারা নিয়ে মিষ্টিকুমড়ার চাষ করেন। ভালো মানের বীজ বিবেচনায় তাদের অনেকেই এসিআই ও লালতীর কোম্পানির কুমড়া বীজ বপন করেন জমিতে। সেই বীজ থেকে বড় বড় গাছ হলেও তাতে কুমড়া ধরেনি। চুয়াডাঙ্গার হিজলগাড়ী, কোটালী ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের চাষিদের প্রায় ১৭০ বিঘা জমিতে দেখা গেছে এমন চিত্র।

কৃষকদের দাবি, ফলন না আসায় কুমড়া আবাদ থেকে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫১ লাখ টাকারও বেশি। জমি ইজারা, জমি প্রস্তুত করা, সার, কীটনাশক, বীজ, সেচ সব মিলিয়ে তাদের যে খরচ হয়েছে তার এক টাকাও তারা ফেরত পাবেন না। অপরদিকে ছয় মাস পূর্ণ হয়ে গেলেই এই জমি কোম্পানিকে ফিরিয়ে দিতে হবে বলে অন্য কোনো আবাদ দিয়েও ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার সুযোগ তাদের নেই।

কোটালী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত চাষি জুয়েল রানা আড়িয়া কৃষি খামারে ৩০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে লালতীর কোম্পানির বীজ কিনে কুমড়ার চাষ করেছিলেন। সেচ, কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন নিয়ম মেনে। সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ছয় লাখ টাকা। আশা ছিলো ভালো ফলন হলে বড় অঙ্কের লাভের মুখ দেখবেন। কিন্তু লাভ তো দুরের কথা, খরচের ছয় লাখ টাকার ধাক্কা কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়েই গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।


ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ, কুমড়া বীজ বপনের পর গাছে ফল না আসায় তারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিন বিনতে আজিজের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনেক দেরি করেছেন। কৃষকরা কোনো ধরনের সহায়তা চাইতে গেলে তিনি বিরক্ত হন বলেও অভিযোগ চাষীদের। এ ব্যাপারে এসিআই বীজ কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার (সেলস) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সেখান থেকে কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লালতীর কুমড়া বীজ কোম্পানির সেলস ম্যানেজার ফরিদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের আলী হোসেন সুপার মার্কেটে অবস্থিত বগা মিয়ার দোকান থেকে বীজ নিয়ে আমি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করি। ওই বীজ ভাল না মন্দ সেটি আমার জানা নেই। এ বীজের দায়িত্ব নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, কয়েকজন চাষী এসিআই ও লালতীর কুমড়া বীজ বপন করে কুমড়ার ফলন পাননি। বিষয়টি জেনে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চাষীদের জমিতে জৈব সার ব্যবহার করতে বলেন। তবে তাও কোনো কাজে আসেনি। ফল না হওয়ার কারণ খুঁজতে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, এ জেলায় যে প্রতিষ্ঠানই বীজ বিক্রি করুক না কেন, তাদের ডেটাবেজ জেলা ও উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে থাকা জরুরি। এ ঘটনায় চাষীদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ফলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। আর বীজ বিক্রেতার কাছে একজন চাষি কিন্তু ক্রেতা। ফলে কৃষক বীজ নিয়ে প্রতারণার শিকার হলে তার জন্য আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগও আছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসপি/আরএএম