চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কামাররা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদুল আযহার আর মাত্র বাকি ৫ দিন।ঈদকে সামনে রেখে কোরবানীর পশু জবাইয়ের অন্যতম উপকরণ চাকু, দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ লোহার বিভিন্ন সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে। আর এসব তৈরিতে শেষ মুহুর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পেশাদার কামার শিল্পীরা। তারা যেন দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না।
কামার পাড়ার দিন-রাত টুং টাং শব্দে মুখরিত রয়েছে আশপাশের এলাকাগুলো। বর্তমানে মেশিনের তৈরি লোহার যন্ত্রপাতি দেখতে সুন্দর হয়। দামও তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে কামারদের তৈরির চেয়ে মেশিনের তৈরি চাকু, দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ লোহার বিভিন্ন সামগ্রীর কদর ক্রমেই বাড়ছে। বাপ-দাদার কর্ম ঐতিহ্য ধরে রাখতেই কিছু কামার এখনো এ পেশায় আছেন। পরিশ্রমের তুলনায় এ পেশায় আয় এবং সম্মান দু'টোই কম। ফলে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
কামাররা বলেন, এক সময় তাদের যে কদর ছিল, বর্তমানে তা নেই। এখন হাতে তৈরী জিনিসের কদর কমে গেছে। সারা বছর তেমন কোনো কাজ থাকে না। তবে,কোরবানি ঈদ উপলক্ষে তাদের কাজের চাহিদা বেড়ে যায়। এসময় প্রতিদিন এক হাজার টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। খরচ বাদে ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা লাভ থাকে।
উপজেলার উথলী গ্রামের কামার শিল্পি অনিল কুমার বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার পেশাটাকে এখনো ধরে রেখেছি। এখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার ও ছেলে মেয়েদের পড়া-লেখার খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হয়।
দেহাটি গ্রামের কামার নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগেও জীবননগর উপজেলায় কামারদের দু'শতাধিক দোকান ছিল। মেশিনের তৈরি লোহার যন্ত্রপাতির দাপটে তা কমতে কমতে জীবননগর উপজেলায় এখন ১৫-২০ টি দোকান টিকে আছে।
উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পেশাদার কামার শিল্পীরা স্থানীয় বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দা, বটি, চাকু, চাপাতিসহ লোহার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছেন। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ক্রেতা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনছেন। কামাররা এসব নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী বিক্রি করছেন।
ক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার লোহার তৈরি জিনিসের দাম একটু বেশি। দা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছুরি ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, বটি ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাপাতি ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা দরে বেচা-কেনা হচ্ছে।
কামররা বলছেন, লোহার দাম ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় যন্ত্রপাতির দাম একটু বেড়েছে।
মেশিনে তৈরি আধুনিক যন্ত্রের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও ঈদুল আযহার মৌসুমে তাদের ব্যবসা কিছুটা আলোর মুখ দেখে। তবে কামার শিল্পীরা আশংকা প্রকাশ করে বলেন, মেশিনের সাহায্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হওয়ার ফলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তবা এই পেশা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তখনকার প্রজন্ম কামার কে? তাদের কাজ কি? তারা কি ধরনের জিনিস বানায় বা বানাত? এবিষয়ে তারা কিছুই জানতে পারবে না। অন্তত বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে এই কামার শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দও।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/টিএএস/আরএএম