২০১৪ সালের পর আজ শনিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এর আগে ২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিলো ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র তাপদাহের কারণে প্রচন্ড গরমে অস্থির হয়ে পড়েছে জনজীবন। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের মতে, চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগে ২০০৫ সালের ২ জুন ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২০১২ সালের ৪ জুন ৪২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
তীব্র তাপদাহে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালকরা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র তাপদাহে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। বেলা ১১ টার পরই সমস্ত রাস্তা-ঘাট ফাকা হয়ে যাচ্ছে। দিন মজুররা বেলা ১০ টার আগেই মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছেন।
এদিকে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে না যেতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের অলিগলিসহ গ্রাম-গঞ্জে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, তীব্র তাপদাহে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে বের না হতেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোজাদারদের সন্ধ্যার পর থেকে বেশি বেশি পানি ও ফলমুল খেতে বলা হচ্ছে। শিশু, কিশোর ও যারা রোজায় থাকছেন না তাদেরকে ঘন ঘন পানি ও শরবত পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জামিনুর হক বলেন, শনিবার বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত টানা ১৩ দিন চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।