বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> প্রতিমন্ত্রীর সামনেই ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ

>> যুবদল নেতার নেতৃত্বে ৬৭ টন মুরগির বিষ্ঠা লুট, গ্রেপ্তার ২

>> যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের ছেলেকে ফিলিস্তিনে গাড়িচাপা

>> জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

>> ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

>> জাতিসংঘে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

>> কক্সবাজারে সৈকত থেকে ৩ মরদেহ উদ্ধার

>> ফুডপান্ডার এমডিসহ ঊর্ধ্বতন ৫ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

>> বহুল আলোচিত গ্রিনল্যান্ড চুক্তিতে যা থাকছে

>> গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

আপনি পড়ছেন : চুয়াডাঙ্গা

আসহায় বৃদ্ধ মা-ছেলের মানবেতর জীবনযাপন, মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে অনিশ্চয়তা


মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)- প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2023-03-25 11:31:45
আসহায় বৃদ্ধ মা-ছেলের মানবেতর জীবনযাপন, মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে অনিশ্চয়তা

আসহায় বৃদ্ধ মা, ছেলের দুবেলা দু'মুঠো খাবার জুটলেও আজও পর্যন্ত করতে পারেনি স্থায়ী ঠিকানা। একখন্ড অন্যের ভিটায় প্রায় ৫০বছর ধরে বসবাস করছে পরবারটি। পরিবারটির সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহায়তা এখন সময়ের দাবী। 

অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রায় ৫০বছর পূর্বে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী মুন্সিপুর গ্রামে মৃত আবু তালেব, ভিলু খাতুন দম্পতি বিবাহসূত্র ধরেই অন্যের জমিতেই বসবাস শুরু করে। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোল জুড়ে আসে ৭টি সন্তান। এসব সন্তানদের লালনপালন সহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে দরিদ্র পরিবারটি কিনতেও পারেনি একখন্ড জমি! নিরুপায় হয়েই ওই অন্যের একখন্ড ভিটে জমিতে থাকতে হয় তাদের। ভিলু খাতুনের স্বামী আবু তালেব মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ১০বছর হলো। আবু তালেব ভিলু খাতুন দম্পতির ৭সন্তানের মধ্যে ২মেয়েকে অনেক আগেই বিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়েছেন। ৫টি ছেলের মধ্যে ২টি ছেলেও অনেক আগেই মারাগেছে, আর ২ছেলে অন্যত চলে গেছে। বছর দশেক আগে  আবু তালেবের মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে সংসারের হাল ধরতে হয় ছোট ছেলে ইয়ার আলীকে। দেখতে দেখতে ইয়ার আলীও প্রায় ৫০বছর বয়সে পা দিয়েছে। নিজের জমিজমা না থাকায় বিয়ের পিড়িতেও বসা হয়নি ছোট ছেলে ইয়ার আলীর। জানে না ইয়ার আলী বিয়ের পিড়িতে আর বসা হবে কিনা তার। কায়িক পরিশ্রম করে সংসারের চাহিদাপূরণে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে। শেষমেশ ২০১৮সালে বিড়ালের ভাগ্যে এবার সিঁকি ছিড়লো। মা ভিলু খাতুনের নামে করে দেয়া হলো একটি (সরকারি সহায়তা) বয়ষ্ক ভাতার কার্ড। সরকারি নিয়মানুযায়ী তিন মাস পরপর সেসুবাদে কিছু টাকা পাই তারা। আর সেই টাকা দিয়ে কোনো রকমে তেল, নুন কেনার সৌভাগ্য হয়। এরই মাঝে হঠাৎ ভিলু খাতুন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, একদিকে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা, তার উপর আবার বৃদ্ধ মায়ের অসুস্থা। হতাশ হয়ে পড়ে ছেলে ইয়ার আলী। নিজের কায়িক পরিশ্রম ও গ্রামের স্থানীয়দের সহায়তায় মায়ের চিকিৎসা করান। বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসায় সে সময়ে অনেকগুলো টাকা খরচ হয়। সেসময়ে বেশ কিছু টাকা দেনায় পড়তে হয় তাকে। শারীরিক পরিশ্রম করে মায়ের চিকিৎসা ও দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে তিনবেলার খাবারও ঠিক মতো জুটেনি তাদের ভাগ্যে। যেদিন খাটে সেদিন খাই, আবার কোনো কোনো দিন না খেয়েও থাকতে হয় বৃদ্ধ মা ও ছেলেকে। খিদের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারলেও মাথা গোঁজার ঠাঁই হারাবার ভয়ে শঙ্কিত বৃদ্ধ মা ও ছেলে। তাদের নিজের বলতে তেমন কিছুই নেই, সম্বল হয়ে আছে ৪টি মাত্র ছোট, বড় ছাগল। 

সরজমিন অনুসন্ধানে তাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, তারা অন্যের যে ভিটায় বসবাস করছে তা এক শতকের ও কম পরিমান জমি। আর ওই জমিতে মাটির দেওয়াল, বাশের খুটি আর জরাজীর্ণ টিনের ছাওনীর নিচে একটি ছোট ঘরে বসবাস করতে হয় তাদের। শুধু কি তাই? ওই ঘরের মধ্যেই আবার রান্না ঘর, ছাগলের ঘর। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই কষ্টের সীমা থাকে না। জরাজীর্ণ টিন দিয়ে অনবরত পানি পড়তে থাকে ঘরের ভিতরে, ভিজে যায় ক্যাথা-বালিশ। কোনো কোনো সময় পলিথিন মুড়িয়েও থাকতে হয় তাদের। গোসল ও ব্যবহারের পানিও আনতে হয় দুর থেকে। এতো কষ্টের মাঝে থেকেও স্বপ্ন দেখে পরিবারটি কবে তাদের একটি স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে! হাতছানি দিবে স্বচ্ছতা। 

হতদরিদ্র ইয়ার আলী বলেন, মায়ের ঔষুধ কিনতে অনেক টাকা লাগে। খেটেখুটে (মুনিষ খেটে) যা আয় করি তা দিয়ে পেটের খাবার ও মায়ের ঔষুধ কিনতেই ফুরিয়ে যায়। আবার ধারদেনা হয়েগেলে একটি ছাগল বিক্রি করে তা পরিশোধ করতে হয়। টাকা জোগাড় করতে চেষ্টা করছি, কিন্তু পারছি না। জানিনা কবে জমি কেনার স্বপ্ন পুরণ হবে। সে আরও বলেন, মা স্ট্রোক করার পর থেকে আমি নিজেই মাকে রান্না করে খাওয়ায় এবং ঘরের কাজও করি। বেশ কিছুদিন ধরে মা, ও মাঝে মাঝে রান্না করে, আমি তাকে সহযোগিতা করি। 

হতদরিদ্র পরিবারকে নিজ জমিতে থাকতে দেয়া দানবীর লিয়াকত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদেরও জন্মের অনেক আগে আমার বাবা তাদেরকে থাকার জন্য জায়গা দিয়েছিলো। এখন আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যাও বেড়ে গেছে, নিজেদেরই বসবাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তাদের অসহায়ের কথা ভেবে চলে যেতে বলতেও পারছি না, আবার থাকতেও বলতে পারছি না। 

দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন, বিষয়টি আমার জানানেই। যদি তারা পরিবারিকভাবে অসচ্ছল হয়, তবে তাদেরকে সব রকম সহযোগীতা করা হবে। 

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোকসানা মিতা বলেন, প্রকৃতপক্ষে পরিবারটি যদি আসহায়, দরিদ্র হয়ে থাকে তাদের কে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের সহায়তা করা হবে। 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বৃত্তবানেরা যদি পরিবারটিকে পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখে তবেই হয়তো পরিবারটি সচ্ছল হবে এবং সমাজে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। 

 

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম