চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠের পর মাঠ। কৃষকের রঙিন স্বপ্ন দুলছে শিশির ভেজা হলুদ ফুলের পাপড়িতে। গেল মৌসুমে স্থানীয় বাজারগুলোতে সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা চলতি মৌসুমে সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন। এছাড়া চলতি মৌসুমে দেশে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে ঝুঁকছেন।
জীবননগর উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
জীবননগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে ইতোমধ্যেই সরিষার আবাদ হয়েছে। আরো চাষের জন্য কৃষকরা জমি প্রস্তুত করছেন। আগাম জাতের সরিষা ক্ষেতে ফুলে ফুলে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছি পরাগায়নে সহযোগিতা করে থাকে। জমি থেকে আমন ধান কেটে নেয়ার পর সেই জমিতে আবার সরিষার চাষ করা হচ্ছে। উপজেলায় গত মৌসুমে ২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। উপজেলার যেসব জমিতে গত বছর আলুর আবাদ হয়েছে সেসব জমিতে এবার সরিষার আবাদ হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮-১০ মণ সরিষা উৎপাদন হয়ে থাকে। আলুর দাম না পাওয়ায় কৃষকরা এবার সরিষা ও ভুট্টা আবাদের দিকে ঝুঁকেছেন।
উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কৃষক আকিমুল ইসলাম বলেন, বিনা-১৪ জাতের সরিষার আবাদ আমাদের এলাকায় বেশি হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে উফশী জাতের সরিষার ফলন ১০-১২ মণ পর্যন্ত হয়। বপণের ৭০-৮০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। সরিষার খৈল গবাদি পশু ও মাছের উৎকৃষ্ট খাদ্য হিসেবে বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ সরিষা সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হওয়ার আশা করছি। কম খরচে বেশি লাভ ও ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে সরিষার দামও ভালো। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএইচ/আরএএম