শীতে কাঁপছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গা। চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গত তিনদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করেছে এ জেলায়। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর শীতের তীব্রতায় জেলার দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষরা নিদারুণ কষ্টে পড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, এ জেলায় আজ শনিবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতকরা ৮৫ ভাগ। এর আগে শুক্রবার ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এভাবে তিনদিন ধরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে চুয়াডাঙ্গায়।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কার্যালয়ের ইনচার্জ রকিবুল হাসান জানান, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়। কয়েকদিন আগে থেকেই চুয়াডাঙ্গায় ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। এ আবহাওয়া আরও কয়েক দিন চলবে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা একটু বাড়ছে। কিন্তু বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই নেমে আসছে শীত। প্রতিদিন রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতাও বাড়ছে। ভোরের দিকে শীতের তীব্রতা আরও বেশি। চব্বিশ ঘণ্টাই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আরও কয়েক দিন এ শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
এ শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে এ জেলার অসহায়-দরিদ্র মানুষগুলো। বিশেষ করে শীতের কারণে সকালে কাজে বের হতে পারছেন না তারা। তবে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় তীব্র শীতে এ জেলায় শীতজনিত রোগীর সংখ্যা আগামী দিনে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে সর্দি-কাশি, বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, এজমাসহ শীতজনিত বিভিন্ন ধরনের রোগী বাড়তে পারে।
শীতের কাপড় কিনতে পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। সরকারিভাবে জেলা প্রশাসন থেকে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে দেশের বিত্তবানরা দাঁড়ালে শীতের দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবে এ জেলার শীতার্ত মানুষ।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএইচ/আরএএম