সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর কথা উঠলেই যানবাহন সংশ্লিষ্ট সকলের চোখের সামনে দূর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র ভেসে ওঠে। সেটি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন স্বয়ং কর্মকর্তা নিজে জড়িত থাকে এবং সেই কর্মকর্তাদেরকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে সহকারী পরিচালক। বিষয়টি সরিষার ভেতর ভূত অনেকটাই এরকম। ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিআরটি অফিসে।
আজ থেকে প্রায় তিন বছর পূর্বে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা হতে আল আমিন হোসেন নামের সংবাদ কর্মী ২০১৯ সালে লার্নার করে ১৫-১২-২০২০ সালে ড্রাইভিং পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লাইসেন্সের জন্য টাকা জমা দেয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও লাইসেন্স হাতে পাওয়া তো দূরের কথা যেই টাকা জমা দিয়েছে সেটিও মেহেদী হাসান নামের অন্য একজনের নামে এপ্রুভ করেছে বিআরটিএ কর্মকর্তা। অথচ দিনের পর দিন লাইসেন্স এর জন্য অফিসে ঘুরাইছে।
যদি বিআরটিএ কর্মকর্তার ভুল হয় তাহলে নামের বানানের ভুল হইতে পারে বা ঠিকানার ভুল হতে পারে কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ আলাদা। আর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবেই ভুল হয় তাহলে কেন এই দুই বছর মিথ্যাচার করছে। যেখানে টাকা এন্ট্রির তারিখ দেখাচ্ছে ২৬-০৮-২০২১ তারিখে। একই সাথে যে সব ব্যাক্তি টাকা পয়সা দিয়ে দালাল ধরে লাইসেন্স করেছে তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়ে গেছে।
এ বিষয়ে টাকা এন্ট্রি দেয়া ব্যাক্তি মরিয়ম খাতুনের সাথে কথা বলতে চাইলে বিআরটিএ মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ওবায়দুর রহমান বলেন, সে এখনো অফিসে আসেনি । ছুটিতে আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, তার একটু সমস্যা আছে ।
এদিকে সহকারী পরিচালক জনাব সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী বলেন কিছু দিন আগে তার ভুল পাইছি বলে তাকে বাদ দিয়ে দিয়েছি।আমি নতুন এসেছি আমার আগে সহকারী পরিচালক হিসেবে আতিয়ার রহমান ছিলো তার সময়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে। তার নাম্বার চাইলে অফিসের কেউ নাম্বার দিতে রাজি হয়নি। এদিকে সামান্য ভুলের জন্য ট্রাফিক সার্জেন্ট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য হাজার হাজার টাকা জরিমানা করে, তাহলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য তিন বছর যাবৎ ভোগান্তির জন্য জনসাধারণের কি করা উচিৎ ?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজপত্র জমা দেয়ার সময় অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি না হওয়াতে এই ভুল নাকি অনিচ্ছাকৃত ভুল অথবা অদক্ষতার ভুল বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত কর্তৃপক্ষের। গত কাল একজন সংবাদকর্মী হিসেবে টাকা ফিরে পেয়েছে কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ হলে হয়তো আবারো তাদের কাছে টাকার দাবি করে বসতো। কারণ একজন বিআরটিএ কর্মকর্তা অতিরিক্ত টাকা না দেওয়াতে যদি এমন পুকুর চুরির মতো ঘটনা ঘটাতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে একটু প্রশ্ন থেকেই যায়। কখনো যদি দুর্নীতি দমন কমিশন চুয়াডাঙ্গা বিআরটি অফিসে সুষ্ঠুভাবে অভিযান পরিচালনা করে, তাহলে হয়তো আরো অনেক থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম