রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. হায়দার আলী মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বুধবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের নিশিন্দারা উপ-শহর এলাকায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মো. হায়দার আলী বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ তিনি স্ট্রোক করেন। এরপর দ্রুত তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নিশিন্দারা উপ-শহর এলাকায় হায়দার আলীর বাড়ির পেছনের মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
মো. হায়দার আলীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার অধিকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি এবং তার মৃত্যুতে জাতি তার এক সূর্য সন্তানকে হারালো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মো. হায়দার আলী ১৯৪২ সালে বগুড়া শহরের নিশিন্দারায় জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৬২’র শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের সংগ্রামী। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ও মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরোচিত ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন ও মুক্তিযুদ্ধোত্তর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
পরবর্তী জীবনে তিনি বগুড়ার নিশিন্দারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি নিজ এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায়ও উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।
রণাঙ্গণের বীরযোদ্ধা হায়দার আলী ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। বগুড়ার নিশিন্দারা এলাকার বাসিন্দা হায়দার আলী পরবর্তীতে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন এবং জনসেবায় মনোযোগী হন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম