শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> ধর্ষণ মামলায় জেল খেটে বেরিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে কবজি বিচ্ছিন্ন

>> রাজবাড়ীতে যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

>> ধর্ম যার যার- রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী

>> এবার বিক্ষোভে নামছে থালাপতি বিজয়ের দল

>> যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস : গ্রেফতার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী

>> বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী

>> ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

>> কুমিল্লার ২ পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিলো বিএসএফ

>> ৫ বছরের ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যার করেন মা

>> দুর্গাপূজায় সীমান্তবর্তী এলাকাসহ তিন জেলায় বিজিবি মোতায়েন

আপনি পড়ছেন : রাজশাহী

ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্য থামাতে পারেনি রাবি প্রশাসন


রাবি প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2022-03-23 17:59:30
ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্য থামাতে পারেনি রাবি প্রশাসন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের হলে সিট বাণিজ্য বন্ধ করতে পারছেনা বলে অভিযোগ করেছেন রাকসু আন্দোলন মঞ্চ। 

বুধবার (২৩ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই অভিযোগ করেন সংগঠনটি। এসময়, কয়েক মাসে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ১১শতাধিক সিটে সিট প্রতি পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা নিয়ে শিক্ষার্থী উঠানোর অভিযোগও করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাবির আবাসিক হলগুলোতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা প্রকট আকার ধারণ করেছে। নিজ মেধাবলে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ পাওয়া ন্যায্য অধিকার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

অধিকাংশ হলে সিট বরাদ্দের নিয়ম মানা হচ্ছেনা অভিযোগ করে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হলগুলোতে গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিট বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ হলেই তা মানা হচ্ছে না। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে জানা যায় করোনায় বন্ধের পর বিভিন্ন হলে গড়ে ১০০-১৭০টি করে আসন ফাঁকা হয়। সবগুলো হলেই শত শত সিট ফাঁকা থাকলেও শুধুমাত্র শহীদ জিয়াউর রহমান হল এবং শহীদ শামসুজ্জোহা হলে গণ-বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হল দুটিতে সিট বরাদ্দ দিলেও বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ১০-১৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীকে হলে উঠাতে পারেনি হল প্রশাসন। হলের সিটগুলো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দখল করে নিয়ে টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

ছাত্রী হলগুলোতেও নিয়ম অনুযায়ী গণ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিটি বরাদ্দ হচ্ছে না। সেখানেও বিভিন্ন জনের সুপারিশ অনুযায়ী নিয়ম বহির্ভূতভাবে ছাত্রীদের সিটে উঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ছেলেদের ১১টি আবাসিক হলে করোনাকালীন শূন্য হওয়া প্রায় ১৫০০ সিটের মধ্যে ১১শতাধিক সিটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের উঠিয়েছে। এই লেনদেনের পরিমান হল ভেদে সিটপ্রতি পাঁচ থেকে দশ হাজার পর্যন্ত হয়েছে।

এছাড়াও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সিট বাণিজ্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোর করে মিছিলে নেওয়া সহ নানা অপকর্ম করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি চক্র তৈরি করে সিট বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এই চক্রে ছাত্রলীগের প্রায় ২৪ জনের নাম অনুসন্ধানে বের করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা। বেশকিছু নাম গণমাধ্যমে প্রকাশও পেয়েছে। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে আহ্বান জানাচ্ছি। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো দখল করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে অনৈতিক অর্থ আদায়, সিট বাণিজ্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোর করে মিছিলে নেওয়া সহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে।

বৈধ শিক্ষার্থীদের জোর করে হল থেকে বের করে দেওয়া এবং বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলে উঠতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও নিয়মিত ঘটে চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের অপকর্মের  বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রাধ্যক্ষদের বারবার অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কোনো ধরণের প্রতিকার পাচ্ছেনা শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগগুলো স্মারকলিপি আকারে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ উপাচার্য, উপদেষ্টা এবং প্রক্টর বরাবর প্রেরণ করা হয়েছিলো। প্রশাসন তিনদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সমস্যা সমাধানের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দৃষ্টি গোচর হয়নি।

একদিকে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং অন্যায় অনিয়ম ও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অপর দিকে আবাসিক হলগুলোতে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দুর্বৃত্তায়নকেই পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চরম লজ্জার বিষয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে ও বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে বৈধ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা প্রদানসহ নিরাপদ পরিবেশে হলে অবস্থানের সু-ব্যবস্থা করা, আবাসিক হলগুলোতে রাজনৈতিক ব্লক এর নামে দখলদারিত্ব বন্ধ এবং নিয়মিত হল সংসদ চালু করা, সিট বানিজ্যের সাথে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিল করা, অনলাইনে প্রতিটি হলের তালিকা হালনাগাদ করা এবং নিয়ম মেনে হল প্রাধ্যক্ষদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি।

দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না করা হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করতে উপরোক্ত দাবি সমূহ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের করতে রাবি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করছি। অন্যথায় আমরা দলমত নির্বিশেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবো।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাবি নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মেহেদি হাসান মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মির আলহাজ্ব হোসেন, রাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ খান ও  সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন, রাবি ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএন/আরএএম