সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ২০২০ সালের আগষ্ট মাস থেকে অদ্যাবধি ১৪৫ টি বাল্যবিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে বন্ধ করেছেন ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আনিসুর রহমান।
সবশেষে তিনি চলতি মাসের ১৩ তারিখ সন্ধ্যায় দেলুয়া গ্রামের হালিমা খাতুনের বিয়ের খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৫ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে বিয়ে বন্ধ করেন। কিন্তু ঠিক ঐ দিন রাতেই উপজেলার ধূলদিয়া গ্রামের মোস্তাকিমের সাথে বিয়ে হয়ে যায় হালিমার।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠিক হালিমার মত এই উপজেলার যাদের বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসাবে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বন্ধ হয়েছিলো। পরবর্তীতে জরিমানা আদায় করার পর সেই বিয়েগুলো আবার হয়ে গেছে। এতে ভ্রাম্যমান আদালতের পরবর্তী নজরদারি না থাকায় বিয়েগুলো হয়ে যাচ্ছে। এতে বর ও কনের পরিবারকে গুনতে হচ্ছে আর্থিক জড়িমানা। তাতে সরকারি কোষাগারে জরিমানার টাকা জমা হলেও সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে নামক সামজিক অবক্ষয় রোধ হচ্ছে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাল্যবিবাহ ঠেকানো তার নেশায় পরিনত হয়েছে।
অভিভাবকরা জানান, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একজন মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে গেলে সেই মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে যায়। সে কারনেই আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা দিয়েও আমাদের সন্তানদের বিয়ে দিয়ে দেই। এতে যদিও আমাদের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তিতে পড়তে হয় তবে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে থেমে যায় না।
আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন বলেন, সরকারের বাল্য বিয়ে রোধের উদ্যোগকে সফল করতেই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়। এবিয়েগুলো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বন্ধ করা হয়েছে। তবে বাল্যবিয়ে নিধন আইনে বলা হয়েছে যদি কোন বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়ে এরপর ২ বছরের মধ্য যদি কোন বিয়ে দেওয়া হয় তবে তাদের আইনের আওতায় আনার বিধান রয়েছে। তবে তিনি এটি স্বীকার করেন যে ভ্রাম্যমান দেবার পর বিয়ে হবার ঘটনা ঘটেছে এমন কোন অভিযোগ না থাকায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি।