নির্বাচনে জিতেই অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে নিজের বাড়ীর যাতায়াতের রাস্তা ও পুকুরের পার গড়লেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাকিল আহম্মেদ।
এতে তার নির্বাচনী এলাকার তিনটি গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নির্বাচনে ভোট না দেওয়ায় ঠাঁকুঝিপাড়া গ্রামের কোন প্রকার উন্নয়ন না করাসহ ওই গ্রামের মানুষের পাশে না থাকার কথা জানান ইউপি সদস্য শাকিল আহম্মেদ।
জানা যায়, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৫৪জন শ্রমিক বরাদ্দ পান ইউপি সদস্য শাকিল আহম্মেদ। তার নির্বাচনী এলাকা তাজুরপাড়া, ঠাঁকুড়ঝিপাড়া ও ধলেশ্বর। ঠাঁকুরঝিপাড়া ও তাজুরপাড়া গ্রামের অনেক ভাঙ্গা রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ না করে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রথম প্রকল্প দিয়েই বরাদ্দ পাওয়া শ্রমিক দিয়ে নিজের বাড়ীতে যাওয়ার রাস্তা ও পুকুরের পার সংস্কার করেন তিনি।
তার নির্বাচনী এলাকা ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ্ব মোজাম্মেল জানান, সদ্য সংস্কার করা ইউপি সদস্য শাকিলের বাড়ীর রাস্তার চেয়ে আমাদের গ্রামে তিনটি রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু এসব রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কার না করে তিনি তার সুবিধার্থে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে তার বাড়ীর রাস্তা ও পুকুর পার গড়েছেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, বিকাশ ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আমাদের কাছ ২০০ টাকা করে নিয়েছেন ইউপি সদস্য শাকিল। আমরা ৫৪জন শ্রমিক প্রত্যেকেই তাকে ২০০ টাকা করে দিয়েছি। ইউপি সদস্য শাকিলের বাড়ীতে যাওয়ার রাস্তা সংস্কারের পাশাপাশি তার নির্দেশে ৪/৫ দিন যাবত আমরা প্রকল্পের শ্রমিকরাই তার পুকুরের পার গড়ে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য শাকিল আহম্মেদ জানান, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে কোন রাস্তা করবো আর কোন রাস্তা করবো না সেটা আমার ব্যাপার। ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামের মানুষ আমাকে ভোট দেয়নি। আমি ওই গ্রামে কোন প্রকার উন্নয়ন করবো না এমনকি ওই গ্রামের কোন বাসিন্দা কোন সহায়তা কার্ডও পাবে না। বাহির থেকে শ্রমিক এনে পুকুরের পার নির্মাণ করেছি। সরকারি প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে পুকুরের পার করা হয়নি।
এব্যাপারে রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ আকন্দ জানান, ইউপি সদস্য শাকিলের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। ঠাঁকুড়ঝিপাড়া গ্রামের মানুষ তাকে ভোট না দেওয়ায় ওই গ্রামের কোন উন্নয়ন ও মানুষের পাশে না থাকার ব্যাপারটা আমি জানি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউর রহমান জানান,যতদিন কাজ পরিদর্শন করেছি ততদিন প্রকল্পের শ্রমিকের সাথে ইউপি সদস্য শাকিলের ব্যক্তিগত পুকুর পার নির্মাণের সম্পৃক্ততা পাইনি। কোন শ্রমিক যদি ইউপি সদস্যকে টাকা দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এনআই/আরএএম