রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : সিরাজগঞ্জ

১১৫ বছর বয়সেও রোজা রাখছেন মজিদ সরকার 


DhakaReport24.com || 2022-04-17 12:45:30
১১৫ বছর বয়সেও রোজা রাখছেন মজিদ সরকার 

আলহাজ আব্দুল মজিদ সরকার ওরফে সন্তোষ (১১৫)। সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকার মৃত আছর উদ্দিন সরকারের ছেলে আব্দুল মজিদ। তার জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯০৭। তিনি আজও সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করছেন। এলাকার প্রবীন ব্যক্তিরা জানান, এতো দীর্ঘ বয়সী অন্যকোনো মানুষ শুধু সয়দাবাদেই নয় সিরাজগঞ্জ জেলায় আছে কি না আমাদের জানা নেই।  

দীর্ঘদিন আগে স্ত্রীকে হারালেও তার রয়েছে ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ে। তারা দেশে বিদেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। আর রয়েছে ছেলে বউ, নাতীন জামাই, নাতি বউ সহতাদের  অসংখ্য স্বজন। এরা তাদের শ্রদ্ধেয় দাদুর সেবা যত্নে কার্পন্য করে না বলে জানায় এই বয়োবৃদ্ধ সন্তোষ প্রামানিক। ব্যক্তি জীবনে তিনি কৃষি কাজ ও তাত ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তার নিজস্ব বাড়িতে এখনও তাঁত ব্যবসা চলে। এ বয়সেও নিয়মিতভাবে নামাজ, রোজা প্রতিপালনসহ চশমা ছাড়া পেপার পড়া, টিভিতে খবর দেখা, তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ইতিপূর্বে তিনি হজ্বব্রতও পালন করেন। উল্লেখ্য, এবারেও তিনি পবিত্র রমযানে রোজা রেখে চলেছেন।  

অতীত স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে মুসা প্রামানিক, আজগর আলী, দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার ছোটবেলার খেলার সাথীরা আজ আর নেই। 

তার কনিষ্ঠ্য সন্তানের সন্তান জুবায়ের হোসেন জানায়, দাদু এখনও নিয়মিতভাবে আমাদের বাড়ির আশপাশে কারও সাহায্য ছাড়াই ঘুড়ে বেড়ায়। দিবারাত্রি সব সময় তার হাতে থাকে তাসবীহ। অজু, নামাজ, গোসলেও কারও কোনো সহায়তা সে গ্রহণ করে না।  জটিল কোনো রোগেও সে আজও আক্রান্ত হয়নি। সে আরও জানায়, দাদু যা করে আমরা যুবক হলেও তা পারি না। দেশের দুরদুরান্ত থেকে দাদুকে দেখার জন্য নিত্যদিনই আমাদের বাড়িতে লোকজন আসে। 

প্রতিবেশি আখের আলী (৬২) জানায়,  আমার জ্ঞানবুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই সন্তোষ ভাইকে যেভাবে দেখেছি এখনও সেভাবেই দেখি। সদা হাস্য উজ্জল এই মানুষটি এলাকার কারও সাথে কোনো হটকারিতায় জড়িয়েছেন বলে আমাদের জানা নাই।  তিনি আরও বলেন, আমার বাপ, দাদার মুখে শুনেছি এলাকার যত জটিল মামলা মোকদ্দমা, হটকারিতা কোটে নয় তিনি নিজেই সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে মীমাংসা করে দিতেন। এজন্য এলাকার আবালবৃদ্ধবনিতা তাকে আজও শ্রদ্ধার সাথে দেখেন।

সয়দাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম জানায়, আমার ইউনিয়নেই শুধু নয়-সিরাজগঞ্জ জেলায় এতো বয়োবৃদ্ধ অন্য কোনো মানুষ আছে বলে আমার জানা নেই। গত নির্বাচনেও তার নাতীর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। 

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম