রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭২ রান করেই অল আউট হয়েছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য টাইগারদের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে । স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের দারুণ এক জয় পেয়েছিল নাজমুল শান্তর দল। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা এগিয় থাকা টাইগাররা এই ম্যাচটি জিতে নিতে পারলেই পাকিস্তানের বিপক্ষে সাদা পোশাকে প্রথম সিরিজ জয়ের ইতহাস গড়বে।
৬ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতিতে গিয়েছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় সেশনে স্কোরবোর্ডে আর ৫৫ রান তুলতেই হারিয়েছে বাকি ৪ উইকেট। স্বাগতিকরা ১৭২ রানে অল আউট হওয়ায় সবমিলিয়ে জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৮৫ রান।
গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে নেমেই দুই উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। আজ চতুর্থ দিনেও টাইগার বোলারদের তোপে প্রথম সেশনেই দ্রুত চার উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তাসকিন আহমেদ-নাহিদ রানাদের তোপে দ্রুত সাজঘরে ফিরেন সাইম আইয়ুব, শান মাসুদ, বাবর আজম, সৌদ শাকিলরা। ৮১ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকা দলের হাল ধরেছিলেন রিজওয়ান।
আঘা সালমানকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগ্রহ বাড়াতে থাকেন তিনি। টাইগার পেসারদের সামলে তিনি এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। সালমানের সঙ্গে গড়েছিলেন ৫৫ রানের জুটি, ছিলেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক ছোঁয়ার দৌড়েও। তবে হাসান মাহমুদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৪৩ রান করেই ফিরতে হয়েছে তাকে। এদিকে রিজওয়ানকে ফেরানোর পরের বলেই হাসান ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ আলীকেও।
এরপর আবরার আহমেদও দ্রুতই ফিরেছেন। তবে শেষ উইকেট জুটিতে পাকিস্তানকে এগিয়ে নিয়েছেন সালমান। মির হামজার সঙ্গে তিনি গড়েছিলেন ২৭ রানের রানের জুটি। ব্যক্তিগত অর্ধশতকের দৌড়েও ছিলেন এই ব্যাটার। তবে হাসান মাহমুদের বলে মির হামজা আউট হলে ১৭২ রানেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস।
এর আগে আজ চতুর্থ দিনে সাইমের সঙ্গে ক্রিজে আসেন মাসুদ। টাইগার বোলারদের সামলে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এগোচ্ছিলেন স্বাগতিকদের এই দুই ব্যাটার। তবে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা সাইম এবার আর ইনিংস বড় করতে পারেননি।
দিনের নবম ওভারে তাসকিনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে শর্টে ক্যাচ তুলে দেন সাইম। সেখানে ফিল্ডিংয়ে থাকা টাইগারদের অধিনায়ক নাজমুল শান্ত ক্যাচটি লুফে নিতে কোনো ভুল করেননি, ফলে সাইমকে ফিরতে হয় ব্যক্তিগত ২০ রানেই।
এদিকে সাইমের মত প্রথম ইনিংসে ফিফটি করেছিলেন মাসুদও। তিনিও আর দ্বিতীয় ইনিংসে এসে দলের হাল ধরতে পারেননি। নাহিদের করা দিনের তৃতীয় বলেই উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। এরপর বাবর আজমকেও নিজের শিকারে পরিণত করেন টাইগারদের তরুণ এই পেসার। তাঁর করা বলে স্লিপে সাদমান ইসলামের মুঠোবন্দী হয়ে ব্যক্তিগত ১১ রানেই ফিরতে হয় বাবরকে।
বাবর ফেরার পর মাঠে নামেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। পরের বলেই আউট হতে পারতেন পাকিস্তানের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। রানার করা বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। তবে তা মুঠোবন্দী করতে পারেননি সাদমান ইসলাম, ফলে শূন্য রানেই জীবন পান রিজওয়ান। তবে রিজওয়ানকে ফেরাতে না পারলেও এরপর সৌদ শাকিলকে ঠিকই সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন রানা। তাঁর করা বলে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে আউট হন শাকিল।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম