মাঠে বরাবরই ঠান্ডা মাথার ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত মহেন্দ্র সিং ধোনি। যার জন্য সকলেই তাকে বলেন 'ক্যাপ্টেন কুল'। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন ২০১৯ বিশ্বকাপের পরই। কিন্তু এখনও ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলে যাচ্ছেন তিনি। তবে ঠান্ডা মাথার এই মানুষই সতীর্থের প্রতারণার শিকার!
যার জন্য নেমে পড়লেন আইনি লড়াইয়ে; মামলা করলেন ব্যবসায়িক পার্টনারদের বিরুদ্ধে। যাদের একজন আবার তার পুরোনো দিনের এক সতীর্থ। প্রকাশ হওয়া মামলার এজহারে বলা হয়, প্রতারণার শিকার হওয়ায় ধোনির ১৫ কোটি রুপি ক্ষতি হয়েছে। যা আদায় করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এমনটায় জানায়য় ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
২০১৭ সালে ‘আর্কা স্পোর্টস’ নামক একটি ক্রিকেট অ্যাকাডেমির সঙ্গে চুক্তি করেন ধোনি। জানা যায়, চুক্তির শর্তানুযায়ী ‘আর্কা স্পোর্টস’ ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি এবং মুনাফার কিছু অংশ ‘ক্যাপ্টেন কুল’ পাবেন। কিন্তু বছরের পর বছর এই অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ধোনি। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ এই শর্তটি মানেননি তার দুই পার্টনার তথা সংস্থার মনোনীত দুই ব্যক্তি সৌম্য বিশ্বাস এবং মিহির দিবাকর।
দ্বিতীয়জনের সঙ্গে একসময় ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন ধোনি। দুজনকে একাধিকবার ‘আইনি নোটিশ’ পাঠিয়েছেন তিনি। যদিও তাতে ভ্রুক্ষেপ করেননি মিহির এবং সৌম্য। অবশেষে নিরুপায় হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাঁচিতে মামলা দায়ের করেন ধোনি। এ নিয়ে কথা বলেছেন তার আইনজীবী দয়ানন্দ সিং।
সংবাদ সম্মেলন করে দায়নন্দ দাবি করেছেন, ‘আর্কা স্পোর্টস আমার মক্কেল মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। চুক্তির বেঁধে দেওয়া শর্ত মানেননি তারা। এতে করে দীর্ঘ সময় ধরে ধোনি প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেক ক্ষতি হয়েছে তার। প্রায় ১৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে আমার মক্কেলের। এখন সমুদয় অর্থ তাদের ফেরত দিতে হবে।’
কেবল ভারতের সাবেক উইকেটরক্ষক ধোনিই নন, সম্প্রতি ব্যবসায়িক পার্টনারের প্রতারণার শিকার হয়েছেন ভারতের বর্তমান উইকেটরক্ষক ঋষভ প্যান্টও। তিনিও নেমেছেন আইনি লড়াইয়ে। শেষ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে কী আছে সেটি দেখার জন্য কার্যত অপেক্ষা করতে হচ্ছে ধোনি ও ঋষভ ভক্তদের।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম