মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬

২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬

২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : হবিগঞ্জ

মাধবপুরে সরকারি পরিত্যাক্ত ভুমি জালিয়াতি মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ


মুজাহিদ মুশি, হবিগঞ্জ- প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2023-03-08 17:19:45
মাধবপুরে সরকারি পরিত্যাক্ত ভুমি জালিয়াতি মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে শচীন্দ্র গোস্বামীর নামের এক লোকের পরিত্যক্ত ভূমি বাসুদেব গোস্বামী নামে এক লোক ভুয়া ওয়ারিশ সেজে স্থানীয় এক ভূমি কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি কোম্পানীর কাছে ক্র‍য়-বিক্র‍য়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে করে দেখা যায়, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউপির হাড়িয়া গ্রামের মৃত ভৈরব চন্দ্র গোস্বামীর পুত্র শচীন্দ্র গোস্বামীর হাড়িয়া
মৌজার এসএ ১৫৩ দাগে  ৯ শতক ও এসএ ২২ (বিএস ১২ বার ১৩) দাগে ৩০ শতক মোট ৩৯ শতক পরিত্যক্ত ভূমি বাসুদেব গোস্বামী নামে এক ভুয়া ওয়ারিশ স্থানীয় এক ভূমি কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি কোম্পানীর কাছে বিক্রি হয়েছে।

আরো জানা যায়,শচিন্দ্র গোস্বামী হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ও দেশ ভাগের সময় ভারত চলে যায়। আর আসে নি।তার কোন ওয়ারিশ নেই।অজ্ঞাত ওয়ারিশ বাসুদেব ৩০/৬/২০১৪ তারিখ তৎকালীন আন্দিউড়া ইউপির চেয়ারম্যান শামসু মিয়ার মাধ্যমে শচীন্দ্র গোস্বামীর পুত্র কানাই লাল গোস্বামী এবং কানাইলাল গোস্বামীর পত্র বাসুদেব গোস্বামী মর্মে একটি মিথ্যা ভিত্তিহীন ওয়ারিশান সনদ লিখে বানায়।সে এই জাল ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমেই জমির নিজের নামে করে নিয়েছে। দলিলে বাসুদেব গোস্বামীর ঠিকানা কুমিল্লা ব্যবহার করলে বাস্তবে ঐ ঠিকানায় এই নামে কেউ নেই প্রমাণস্বরূপ একটি সংস্লিষ্ট চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন রয়েছে। এছাড়া এই নামে মাধবপুরের স্থানীয় এলাকা হাড়িয়া গ্রামেও কেউ আছে বলেও  কোন প্রমাণ নেই।

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা শেখ শাহিন উদ্দিন শাহিন ও স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান ,বাসুদেব বৈধ কোন ওয়ারিশ নয়।সাব সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এন্ট্রিকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র,সাক্ষীগন,জন্মনিবন্ধন অথবা টিপসই পরীক্ষা করলেই ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত হবে।বাসুদেব গোস্বামী একজন বুয়া ওয়ারিশ,  মাধবপুরের চারাভাংগা সাব রেজিষ্টি অফিসের দলিল নং ৬২৩১/২০১৩ইং দলিলে গোলাম মস্তোফা চৌধুরী লিটন নামের এক ভূমি কর্মকর্তার নামে সাব কবলা রেজিষ্ট্রি করেছে।পরে সংস্লিষ্ট এসিল্যান্ড অফিস থেকে বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করেই ১৬৭০/২০১৪ নং মোকদ্দমার মাধ্যমে আরো কিছু বিতর্কিত জমিসহ লিটন নিজের নামে নামজারি করে।পরে লিটন ৩০/৬/২০১৪ তারিখে ৩৩২৮ নং সাব কবলা দলিলের মাধ্যমে ৩৯ শতক জায়গা স্থানীয় আকিজ গ্লাসকো নামে একটি কোম্পানীর মালিক ও আকিজ গ্রুপের এমডি শেখ বশির উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন।

এর মধ্যে ৯ শতক জায়গার মালিকানার দাবীদার স্থানীয় হাড়িয়া গ্রামের ফুল মিয়া নামের এক গরিব কৃষক জানান, আনরেজিস্ট্রার দলিলমুলে দখল রেকর্ডমুলে মালিকানা আমার।এটা নিয়ে থানা ও আদালতে মামলাও রয়েছে।কোম্পানীর লোকজন আমাকে আমার ৯ শতক জায়গায় ভিড়তে দেয় না।
বর্তমানে এই জায়গায় মাধবপুর উপজেলার আকিজ গ্লাস ইন্ড্রাস্ট্রিজের ভেতরে অবস্থান করছে।

ঐ পরিত্যক্ত ভূমির ক্রেতা গোলাম মস্তোফা চৌধুরী লিটন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমি জায়গা কিনে নিয়েছি।কোন ভুল করলে বাসুদেব করেছে আমি না।আর তদন্তে সত্যতা পেলে সে ফাসবে আমি না।

উল্লেখ্য,পরিত্যক্ত সম্পত্তি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তি) আদেশ, (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৬, ১৯৭২) ও ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ পরিত্যক্ত সম্পত্তি (জমি, ভবন ও অন্য যেকোন সম্পত্তি) বিধির বিধানাবলির আওতায় ব্যবস্থিত হয়ে থাকে।ইহা দখল আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

এলাকার সচেতন মহলের দাবী, মূলত পরিত্যাক্ত,নামবিহীন বা খাসতুল্য ৩৯ শতাংশ ভুমি যা জাল ওয়ারিশ সৃজনের মাধ্যমে আকিজ গ্লাসকো কোম্পানীর  লিটনের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে।ফলে সরকার হারিয়েছে তার পরিত্যক্ত ভূমির মালিকানার অধিকার।এই কেলেংকারির সাথে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান,সাব-রেজিস্টার,দলিল লেখক,ভূমি অফিসের লোক,দলিলের সাক্ষীসহ অনেক লোকের যোগসাজোশ আছে  কি না তদন্তের দাবী জানিয়েছেন।এদিকে জমি হস্তান্তরকারী  ভূমি কর্মকর্তা লিটন তার কর্মস্থলে নানান ঘুষ বানিজ্য ও দুর্নীতির সাথে জড়িত মর্মে গনমাধ্যমে অনেক খবর প্রচার  হয়েছে।