আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও ফার্সী কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তারের লিখিত তাজকেরাতুল আউলিয়া গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদের নামে মনগড়া ভুল তথ্য ও ভিন্ন মনীষীদের জীবনী প্রবেশ করিয়ে মূল গ্রন্থ বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার বাংলা বাজারের সোলাইমানিয়া বুক হাউসে প্রকাশক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলামিন চৌধুরি ও অনুবাদক মুফতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন ও মাওলানা কাতেব আহমদ এর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে,ওই প্রকাশনী অনুবাদ গ্রন্থটি প্রথম ২০১৫ সালে, দ্বিতীয় ২০১৭ সালে এবং তৃতীয় ২০২২ সালে সংস্করণ প্রকাশের মাধ্যমে লাখ লাখ কপি বই দেশে বিদেশে বিক্রি করে আসছে।মূল বইয়ে ৯৬ জন মনীষীর জীবনী উল্লেখ থাকলেও ওই প্রকাশনীর অনুবাদকগণ তাদের অনুবাদ গ্রন্থে প্রায় ২৯৩ জন মনীষীর জীবনী অন্তর্ভুক্ত করেছেন।এছাড়া বইয়ের মূল লেখক ফরিদউদ্দিন আত্তারের মৃত্যু ১২২১ সালে হলেও সোলাইমানিয়া বুক হাউজের বিকৃত বইয়ে এমন সব মনীষীর জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের জন্ম লেখকের মৃত্যুর অনেক অনেক পর।
হবিগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিলফুল ফুজুলের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন,এ ধরনের ভুল তথ্য দিয়ে বই প্রকাশ করে সহজ সরল মুসলমান পাঠকদের ঠকানো হচ্ছে।প্রকাশক ও অনুবাদকের এ ধরনের প্রতারণা ও দায়িত্ব অবহেলায় তাসাউফ চর্চা ও আউলিয়াদের শান-মানের হানি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সোলাইমানিয়া বুক হাউজের ব্যবস্থাপক রাজিউল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,ভুল করলে অনুবাদক করেছেন। আমরা করি নি।এই ধরনের বই প্রকাশে প্রকাশক ও অনুবাদকের দায়িত্ব অবহেলা ও প্রতারনা বিষয়টি জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এ বিষয়ে তা বলতে রাজি হননি।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক মো: বজলুর রশিদ বলেন,এইভাবে কোন ইসলামী লেখদের বই বিকৃতি কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়।ডিজি স্যারের বরাবর অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।এদিকে ওই বই কিনে ক্ষতিগ্রস্থ হবিগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক জনাব মুজাহিদ মসি ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে জনস্বার্থে ইসলামী ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক ও সংস্লিষ্ট কিছু দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।এছাড়া তিনি আরো জানান আরো কিছু জাল বইয়ের তথ্য প্রমান তার কাছে আছে।
এদিকে আধ্যাত্মিক লেখক ফরিদ উদ্দিন আত্তারের বই অনুবাদের নামে বিকৃতি করার মাধ্যমে ইসলামী ও সূফি মূল্যবোধে আঘাত আসায় দ্রুত অনুবাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ওই বিকৃত বই নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদগণ।