নেই মাথাগোঁজার ঠাঁই, তার উপর আবার পেটের ক্ষুধা। অভাবের সংসারে পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য দুমুঠো ভাতের জন্য লোকলজ্জ্বাকে উপেক্ষা করে সংগ্রাম করে চলেছেন বিধবা অসহায় নারী পারুল সরকার (৪৬ )।
অসহায় এই সংগ্রামী নারী লাখাই উপজেলার ১ নং লাখাই ইউনিয়নের গুপ্তহাটির বাসিন্দা মৃত মনমোহন সরকারের স্ত্রী । স্বামী গত হয়েছে ২ বছর আগেই। একটি মেয়ে ছিল তাকেও স্বামী জীবিত থাকাকালীন প্রতিবেশীদের সহায়তায় বিয়ে দিয়েছেন ধার দেনা করে । বর্তমানে তিনকূলে তার কেউ নেই। মৃত স্বামীর নেই বাপ -দাদার পৈতৃক সম্পত্তি, যা ছিল তাও বাপ দাদা দেনার দায়ে বিক্রি করে গেছে।
গুপ্তহাটির বাসিন্দা কনক দেবনাথ মানবতা দেখিয়ে থাকতে দিয়েছেন নিজের বাড়িতে। সেখানে স্বামী জীবিত থাকাকালীন টিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটা ঘরে মাথাগোঁজার ঠাঁই হয়েছে তার।
জীবন জীবিকার তাগিদে স্বামীর মৃত্যুর পর, কখনো ইট ভাঙার কাজ, কখনো মাঠে কৃষি জমিতে ধান রোপনের কাজ করে দিনাতিপাত করছেন তিনি।
এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে আবেগ জড়ানো কন্ঠে বলেন, ”সরকার অসহায় মাইনষেরে ঘর দে, ভাতা দে। আমারে তো কিচ্ছু দিলো না। ভোডের ( ভোটের) সময় হইলে চেয়ারম্যান - মেম্বর ( মেম্বার ) আ। এমনে কেউ আমারে জিগাইতো আয় না, আমি ক্যামনে চলি।” (তার ভাষ্য)
তার কাছ থেকে ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের কপি নিয়ে বিধবা ভাতার নাম করে তাকে বিভিন্ন অজুহাতে নাম না দিয়ে অহেতুক হয়রানি করার অভিযোগ করেন জনৈক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ( ৭ নং ওয়ার্ড) হাবিবুর রহমান জানান, এখনো ইউনিয়ন পরিষদে ভাতার নাম আসে নি। পরবর্তীতে নাম আসলে তাকে দেওয়া হবে৷
লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরীফ উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভূমিহীনদের নামের তালিকা একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসেছে।
তিনি (পারুল সরকার ) ভূমিহীন হওয়া সত্বেও তার নাম না থাকার বিষয়টি শুনে, তাকে ইউএনও অফিসে যোগাযোগের করতে বলেন তিনি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম