বাংলা ক্যালেন্ডারের পাতায় এখনো চলছে জ্যৈষ্ঠমাস। তবে এরই মাঝে বর্ষাকালের আগমনী জানান দিচ্ছে প্রকৃতি।
একটু একটু করে বর্ষা সাজছে তার চিরচেনা রুপে। নদ-নদী, খাল-বিল বর্ষার পানিতে টইটুম্বুর। ডুবেছে মাঠ-ঘাট, এমনকি বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে গ্রামীণ কাঁচা, আধা কাঁচা ও পাঁকা রাস্তাগুলো। আর এসব ডুবে যাওয়া রাস্তা দিয়েই টমটম, সিএনজি-অটোরিকশাচালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়া করছে। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সোমবার (৩০ মে) উপজেলার ১নং লাখাই ইউনিয়নের ডিসি সড়কের স্বজনগ্রাম ও রুহিতনসী অংশের দেড় কিলোমিটার ডুবন্ত সড়কে যান চলাচলের দৃশ্য চোখে পড়ে। লাখাই বাজার থেকে বামৈ ডিসি সড়কের ৬ কিলোমিটার রাস্তার এ অংশটি নিম্নাঞ্চল হওয়ায় প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে আগে পানিতে তলিয়ে যায়।
রিপন দেবনাথ নামে একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক জানান, যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রেখে ও নৌকা চলাচল অপ্রতুল হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাচ্ছেন চালকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া দেড় কিলোমিটার সড়কের অনেকাংশই দৃশ্যমান নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা পার্থ রায় জানান, এ রাস্তায় রয়েছে একাধিক ভাঙা। রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে এসব ভাঙা অংশে প্রায় সময়ই ঘটছে ছোট ছোট দুর্ঘটনা। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিনই চলছে সিএনজি, টমটম অটোরিকশা। আর সময় বাঁচাতে কোলের শিশুসহ বৃদ্ধ নারী পুরুষ সকলেই চলছেন হাতের মুঠোয় জীবন নিয়ে।
যাত্রীরা জানান, নৌকা চলাচল কম থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।
রফিক মিয়া নামে একজন যাত্রী বলেন, ‘বটতলা থেকে নৌকা চলাচল একদম কম। তাই জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও টমটম/সিএনজির মতো অটোরিকশা দিয়েই যেতে হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ জানান, ‘পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে লাভের আশায় চালকরা গাড়ি চালাচ্ছেন। যাত্রীদের মনেও ভয় নেই। ছেলে মেয়েদের নিয়ে দেখা যায় তারা এভাবেই ছুটে চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে রাস্তা থেকে খালে চলে যায় ২-৩টি টমটম। এছাড়া রাস্তায় সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী ও পানিতে পড়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন নামে স্থানীয় একজন জানান, বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তায় চলাচলে টাকা ও সময় দুটোই বেশি লাগে। ৬ কিলোমিটার এ রাস্তাটি আডোবা হলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেত লাখাই ইউনিয়নবাসী।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম