জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তিন তলা মসজিদ নির্মাণের কাজ এক বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
গত বছর ৭ এপ্রিল মসজিদের কাজ শুরু হয়। এ বছরের ৬ এপ্রিল কাজ সমাপ্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এই কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আছে এমকেটি -এনএইচই (জেভি) ১৭ গগন চৌধুরী বাইলেন সদর, ময়মনসিংহ।
সরজমিনে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত এক তলা কাজও সম্পন্ন হয়নি। দাড়িয়েছে শুধু পিলার।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইড পরিদর্শক পান্না জানান, করোনার কারণে শ্রমিক বিভিন্ন জায়গা থেকে কাজে আসতে পারেনি। এ কারণে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। আশা করি, ৭/৮ মাসের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. জোবায়ের হোসেনের কাছে মসজিদের কাজের বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাইলিং-এর কাজ করার জন্য যে মেশিন প্রয়োজন হয়, সেই মেশিন পাওয়া যাচ্ছিল না। মসজিদের টিএল উচ্চতা ছিল ২ ফিট, কিন্তু আমরা সেটা সাড়ে চার ফিট করেছি। যার কারণে, ইট, বালু, সিমেন্ট বেশি লেগেছে।
এছাড়া সাধারণ বিল্ডিং-এর উচ্চতা হয় ১০ ফিট, কিন্তু মসজিদের ক্ষেত্রে ১৪ ফিট করা হয়েছে। ১৪ ফিট ঠিকা বানানোর জন্য ঠিকা কেটে জোরা দিতে হচ্ছে। এজন্য সময় লাগছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় নিয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বুঝিয়ে দিবে বলে তিনি জানান।
এদিকে নামাজ পড়ার জন্য যে মসজিদটি রয়েছে, সেখানে শুক্রবারে নামাজ পড়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় দুর্ভোগে পরেছে শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানোয়ার রাব্বী প্রমিজ বলেন, গত জুম্মার দিনও আমরা লক্ষ্য করেছি অনেকে একটা চট না পেয়ে মাটিতেই নামাজ পড়েছে। অনেকে বিজ্ঞান ভবনের সামনে যে ছাতা রয়েছে সেখানে নামাজ পড়েছে। আবার অনেকে নামাজ পড়তে না পেরে ফিরে চলে গিয়েছে। এটি সত্যিই হতাশাজনক ও দুঃখজনকও। বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বলেই যে ১ বছরের কাজ ২ বছরে শেষ করবে তা কিন্তু হতে পারে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী যায়িদ সাদ জানায়, আমরা নামাজ পড়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছি না। নামাজ পড়ার জন্য অল্প একটু জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা সবার জন্য হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বাইরে রোদে পুড়ে নামাজ পড়তে হয়। অনেক সময় বৃষ্টির কারণে নামাজ না পড়ে চলে যেতে হয়। দ্রুত মসজিদের নির্মাণ কাজ হলে আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, এই মসজিদ নির্মাণে এত দেরি হওয়ার কারণ সন্দেহজনক। মাঝে মাঝে অনিয়মের কথাও শোনা যায়। যা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। অতি দ্রুত কাজের সমাপ্তি হোক, সেই প্রত্যাশাই করি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম