ডাবল সিটের কক্ষের দাম জানিস? ৭-৮ হাজার টাকা। আমরা কিছুই দেখি না সিট খালি হলে, শুধু টাকা দেখি। টাকা ছাড়া থাকা যাবে না, থাকলে ঝামেলা হবে। হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপুর বিরুদ্ধে মাদার মখশ্ হলের এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।
বুধবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু এমন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেছে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ এখলাস উদ্দীন।
ভুক্তভোগী জানায়, গতকাল বিকেল ৩টার সময় মাদার বখশ্ হলের ২০৮ নাম্বার কক্ষে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে অপু তাকে বলেন, 'ডাবল সিটের কক্ষের দাম জানিস? ৭-৮ হাজার টাকা। আমরা কিছুই দেখি না সিট খালি হলে, শুধু টাকা দেখি। টাকা ছাড়া থাকা যাবে না, থাকলে ঝামেলা হবে। যদি ফোর সিটের কক্ষে যাস, তাহলে রেইট একটু কমে যাবে। আর এসব নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবি না। এসব ওদের জানালে সমস্যা হবে!
ভুক্তভোগী আরও বলেন, বুধবার রাতে সোহেল রানাসহ ছাত্রলীগের ১০-১২ জন নেতাকর্মী তার কক্ষে এসে সরাসরি তার বেড নিচে নামিয়ে দেয়। সেসময় বেড নামিয়ে দিতে বাঁধা দেওয়ায় তার গায়ে হাত তোলে তারা। তারপর অন্য একজনকে তার সিটে তুলে দেওয়া হয়।
প্রাধ্যক্ষ শামিম হোসেনের মাধ্যমে গত এক সপ্তাহ আগে মাদার বখশ্ হলের ৩৩৩ নম্বর কক্ষে উঠেছেন বলেও জানান ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্টরা হল ছাত্রলীগের সভাপতি প্রিন্স হামিম রেজা শাফফাতের অনুসারী। আর ভুক্তভোগীকে নামিয়ে দিয়ে তারা অন্য একজনকে টাকার বিনিময়ে উঠাতে চাচ্ছেন।
টাকার বিনিময়ে হলে উঠানোর অভিযোগের বিষয়ে হবিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অপু বলেন, 'আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা। আর আমার মাদার বখশ হল নিয়ে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। আপনাদের কাছে যদি প্রুফ থাকে তবে আপনারা নিউজ করতে পারেন।'
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে মাদার বখশ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রিন্স হামিম রেজা শাফফাতের মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও, কল রিসিভ না করায়, তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলেছি। যদি শিক্ষার্থীকে জোর করে নামিয়ে দেয়া বা মারধর ঘটনা ঘটে থাকে, তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
হলের সিট থেকে শিক্ষার্থীকে নামিয়ে দেয়ার বিষয়ে মাদার বখশ্ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীম হোসেন বলেন, 'আমি এ বিষয়টা আজ দেখব। এখন কিছু বলতে পারছি না।'
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম